কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী ব্রত বাংলার হিন্দুসমাজের অন্তর্গত একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রত। বাংলার বাঙালি হিন্দুঘরের প্রধানত বৈষ্ণব মতাবলম্বী পুরুষ ও মহিলারা জাগতিক মঙ্গলকামনায় এবং অশুভ-অকল্যাণ দূর করতে এই ব্রত পালন করেন। এটি ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষে জন্মাষ্টমী তিথিতে শ্রীকৃষ্ণের পূজার অঙ্গ হিসাবে পালন করা হয়। 

জন্মাষ্টমী হিন্দু ধর্মের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উত্সব। ভক্তরা জন্মাষ্টমীর উপবাস রাখেন এবং শ্রীকৃষ্ণের উপাসনাও করেন। এই দিনে মন্দিরগুলি সারাদেশে সজ্জিত। জন্মাষ্টমী ব্রত পালনের প্রথম পর্যায়ে প্রয়োজনীয় উপকরণ অর্থাৎ ফুল, আতপ চাল, ফলের নৈবেদ্য, ফুল, তুলসীপাতা, দূর্বা, ধূপ, দীপ, পঞ্চগব্য, পঞ্চগুড়ি, পাট, বালি, পঞ্চবর্ণের গুড়ো, মধু পর্কের বাটি, আসন-অঙ্গুরী ব্যবহার করতে হয়। ব্রতের সারাদিন উপবাসী থেকে উপকরণগুলি দিয়ে শ্রীকৃষ্ণের পূজা করতে হয়। ব্রতভঙ্গের পর নিরামিষ আহার গ্রহণ করতে হয়। এই দিনে কিছু বিশেষ নিয়ম পালন করলে শ্রীকৃষ্ণের কৃপা পাওয়া যায়। এই ব্যবস্থাগুলি জন্মাষ্টমিতে মেনে চললে মিলবে সুফল দূর হবে সমস্যা।

শ্রীকৃষ্ণ হলেন ভগবান বিষ্ণুর অবতার এবং ভগবান বিষ্ণু এবং মা লক্ষ্মীর পারিজাত ফুল খুব পছন্দ। তাই পারিজাত ফুল অবশ্যই জন্মাষ্টমীর পূজায় ব্যবহার করুন। 
শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীতে রূপোর বাঁশি অর্পণ করা উচিত। পূজার পরে এই বাঁশিটি আপনার পার্স বা অর্থ রাখার জায়গায় রাখতে হবে।
জন্মাষ্টমীর দিন কৃষ্ণকে অবশ্যই ময়ূরের পালক সরবরাহ করবেন। শ্রীকৃষ্ণের কাছে ময়ূর খুব প্রিয়। ভগবান কৃষ্ণ সর্বদা তাঁর মাথায় ময়ূরের পালক বহন করেন।
জন্মাষ্টমীর দিন উচিত শ্রীকৃষ্ণ এবং তাঁর ভাই শ্রী বলরামের হাতে রাখি বাঁধা।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে শঙ্খের খোলায় দুধ দিয়ে শ্রীকৃষ্ণের গোলাপ অবতারকে অভিষেক করা উচিত।
জন্মাষ্টমীতে বাড়িতে গরু-বাছুরের একটি ছোট মূর্তি আনলে অর্থ সংক্রান্ত সমস্যা দূর হয়।