সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অরাজনৈতিক সাক্ষাত্কার নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলের শিকার হন অভিনেতা অক্ষয় কুমার। মুহূর্তে ভাইরাল হয় সেই সাক্ষাত্কারের ভিডিওটি। এবার ভোট না দিয়ে আবারও  ট্রোলের শিকার হলেন তিনি। আর সঙ্গে সঙ্গে মেজাজও হারিয়ে ফেললেন। 

সোমবার চতুর্থ দফার ভোটে বলিউডের বিভিন্ন সেলেব বুথে গিয়ে ভোট দেন। এঁদের মধ্যে ছিলেন প্রিয়ঙ্কা চোপড়া, আমির খান, কিরণ রাও, করিনা কপূর খান, সোনালি বেন্দ্রে, অজয় দেবগণ, কাজল, ডায়ানা পেন্টি-সহ আরও অনেকে। এমনকী, অক্ষয় পত্নী টুইঙ্কল খন্নাও ভোট দিয়েছেন। কিন্তু এবারের লোকসভা নির্বাচনেও ভোট দিলেন না অক্ষয় কুমার।  

মঙ্গলবার মুম্বইয়ের একটি চলচ্চিত্র উত্সবে অক্ষয় কুমারকে এক সাংবাদিক জিজ্ঞাসা করেন, কেন তিনি ভোট দেননি। এই প্রশ্ন শুনেই চটে যান অক্ষয়। রেগে গিয়ে ওই সাংবাদিককে বলেন, ‘‘চলিয়ে বেটা। (কেটে পড়ুন)’’

মোদী ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে তাঁর সঙ্গে দেখা গিয়েছে অক্ষয়কে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেশ সুসম্পর্ক বজায় রাখেন বলেও শোনা যায়। মোদীর সুরেও বেশ কয়েকবার দেশভক্তির কথা শোনা গিয়েছে তাঁর মুখে। কখমও স্বচ্ছ ভারত অভিযান, কখনও সেনাদের নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য রেখেছএন তিনি। আর মোদীর অরাজনৈতিক সাক্ষাত্কার নেওয়ার পরে তিনি নেটিজেনদের কাছে মোদীভক্তের তকমাও পেয়েছেন। 

এমনকি, মোদীর হয়ে এক সময়ে তিনি ভোট দেওয়ার গুরুত্ব নিয়েও মতামত দিয়েছিলেন। অক্ষয় বলেছিলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েই গণতন্ত্রের দিকে এগোনো যায়। দেশ ও ভোটারদের মধ্যে সম্পর্ক এমন হওয়া উচিত যেন ভোটিং পদ্ধতিটা প্রেমকথার মতো হয়। 

কিন্তু এত কিছু বলার পরেও নিজে ভোট দিতে যাননি অক্ষয় কুমার। আর তার জন্যই নেটিজেনদের ট্রলের শিকার হতে হয় তাঁকে।  

কিন্তু আসল কারণটা কী? ঠিক কেন ভোট দেননি অক্ষয়? অক্ষয় আসলে এদেশের নাগরিকই নন। জন্ম হয় অমৃতসরে এবং বর্তমানে মুম্বই নিবাসী। কিন্তু অক্ষয়ের পাসপোর্ট কানাডার। এক সময়ে সেই দেশ থেকে তাঁকে নাগরিকত্বের প্রস্তাব দেওয়া হয়। অক্ষয় সেই প্রস্তাব গ্রহণও করেন। আর তাই ভারতের নাগরিকত্ব হারিয়ে ভোটাধিকারও হারান তিনি। 

প্রসঙ্গত, অক্ষয়ের ‘টয়লেট এক প্রেম কথা’, ‘প্যাডম্যান’, ‘এয়ারলিফট’, ‘কেসরি’ এই  ছবিগুলি তাঁর দেশপ্রেমিক  ভাবমূর্তি তৈরি হওয়ার পিছনে বেশ গুরুত্বপূর্ণ কারণ।