ঋষি কাপুরের সঙ্গে নীতু সিং-এর প্রেমের কথা কে না জানে। পরবর্তীতে তাদের দাম্পত্য জীবনও ছিল সুখী গৃহকোণ। তবে ঋষির জীবনের প্রথম  প্রেমটি কিন্তু নীতুর সঙ্গে নয়। যে প্রেমে ঋষি হাবুডুবু খেতেন, আবার রেহাই পেতে চাইতেন। সেই প্রেম ছিল ঋষির জীবনের প্রথম সিরিয়াস প্রেম। সেটা ভেঙে না গেলে ওই পার্সিয়ান ইয়াসমিন মেহতাই হতেন ঋষি কাপুরের জীবনসঙ্গী। ঋষির প্রথম ছবি, 'ববি' মুক্তি পায় ১৯৭৩ সালে। তারও অনেক আগে থেকে ইয়াসমিনের সঙ্গে ঋষির গভীর প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। কিন্তু 'ববি' মুক্তির পর, ওই সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন 'স্টারডাস্ট'-এ ডিম্পল কাপাডিয়ার সঙ্গে ঋষির প্রেমের কাহিনী ছেপে বের হয়। সেই প্রেম কাহিনি কতখানি সত্যি আর কতটা জল মেশানো তার চেয়ে গুঞ্জন ছিল অনেক বেশী।  ডিম্পল তখন রাজেশ খান্নার বিবাহিতা স্ত্রী। ওই সময়ের গুঞ্জন ডিম্পলকে খুব একটা প্রভাবিত করেনি। কিন্তু শেষ করে দিয়েছিল ইয়াসমিনের সঙ্গে ঋষির সম্পর্ক। ঋষি অনেক চেষ্টা করেছিলেন ইয়াসমিনকে তার জীবনে ফিরে পেতে, কিন্তু ইয়াসমিন ঋষির সেই ডাকে সারা না দিয়ে মুখ ঘুরিয়ে রেখেছিলেন। 

 

ইয়াসমিনকে ঋষি খুব সহজে ভুলে যেতে পারেন নি। প্রথম প্রেম ভেঙ্গে যাওয়ার যন্ত্রণা ঋষি অনেকদিন বয়ে বেরিয়েছেন। তারপর তাঁর জীবনে এসেছেন নীতু। তবে ডিম্পলের ব্যাপারে নীতুও কিন্তু তারপরেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেন। একবার ডিম্পলের সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জনে ঋষির জীবনের প্রথম প্রেম ভেঙেছিল। ১০ বছর পর ঋষির সঙ্গে 'সাগর' ছবির শ্যুটিং-এ আবার ডিম্পলের সঙ্গে মেলামেশা শুরু হল, তখন নীতু বেশ ডিপ্রেস হয়ে পড়েছিলেন। 

 

 

ঋষি নীতুর এই অবস্থার কথা নাকি শুরুতে জানতেই পারেননি। অনেকদিন পর নীতু ঋষিকে সব জানিয়েছিলেন। নীতু না জানালে হয়ত ঋষি কোনওদিন জানতেই পারতেন না। অবশ্য ঋষির মতে, নীতুর চিন্তার কোনো কারণই ছিল না। 'ববি' ছবির সময়ে যদি ডিম্পল তার 'একটু বেশি কিছু' হয়েও থাকেন, পরবর্তীতে তিনি ছিলেন কেবলই 'বন্ধু'। তাছাড়া 'সাগর' ছবির সময়ে ঋষি ও ডিম্পল, দুজনেরই ছিল দুটি করে সন্তান। ওই অবস্থায় তারা নতুন করে সম্পর্কে জড়ানোর কথা চিন্তাও করতে পারতেন না। এটাই ছিল ঋষির মত। 

 

 

নীতু সিং বিয়ের আগে বলিউডে যথেষ্ট সক্রিয় ছিলেন। কিন্তু ঋষিকে বিয়ের পর নীতু ধীরে ধীরে কাজ কমিয়ে দিতে থাকেন। এ প্রসঙ্গে ঋষি তার আত্মজীবনীতে অবশ্য স্বীকার করেছেন, এর কারণ সম্ভবত এই যে তিনি তখন মেল শভিনিস্ট ছিলেন।  নিজের পুরুষতান্ত্রিক উগ্রতার কারণেই নীতু যখন তাঁর ক্যারিয়ার থেকে সরে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন তখন তিনি মুখ বন্ধ রেখেছিলেন।

 

 

ঋষি কাপুর তার আত্মজীবনীতে লিখেছেন, বিয়ের পর কাজ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল নীতুর নিজের। বিয়ের আগেই তারা ঠিক করে রেখেছিলেন, সন্তান হওয়ার পর তাদের মধ্যে একজন ছবিতে কাজ করবেন, অন্যজন সন্তানের দেখভাল করবেন। সেই অনুযায়ী সন্তান জন্মের পর নীতু নিজে থেকেই তার ক্যারিয়ারের ইতি টানেন। তবে ঋষির এ কথা স্বীকারে আপত্তি নেই যে, নীতুকে তিনি আটকানোরও কোনো চেষ্টা করেননি। কারণ তার মধ্যে একজন 'মেল শভিনিস্ট' ছিল, যে মনে মনে চাইত তার স্ত্রী যেন কাজ করতে বাইরে না যায়।

 

 

কোনও অভিনেতারই সব ছবি হিট হয় না। ঋষিও অভিন্ন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন। 'ববি' সুপারহিট হওয়ার পর ঋষির প্রত্যাশা হয়ে উঠেছিল আকাশচুম্বী। কিন্তু পরের ছবিগুলি প্রায় সবই বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়েছিল। তখন ঋষি নিজের যাবতীয় ব্যর্থতার জন্য অভিযুক্ত করেছিলেন নীতুকে।  ইতিমধ্যে নীতুর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়ে গিয়েছে। তাঁর মনে হতে শুরু করেছিল, নীতুর কারণেই তার ছবিগুলি আশানুরূপ ব্যবসা করতে পারছে না। তখন নীতু সন্তানসম্ভবা। কন্যা ঋদ্ধিমাকে গর্ভে নিয়েই নীতুকে সহ্য করতে হয়েছিল ঋষির দুর্ব্যবহার ও মানসিক ওঠা নামা। ফলে তাদের সম্পর্কে ব্যাপক টানাপোড়েনও শুরু হয়েছিল। নীতুর প্রতি ঈর্ষায় একটি ছবিও ছাড়তে বসেছিলেন ঋষি। 'কাভি কাভি' ছবিটি নাকি রিষি প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন। কারণ, ওই ছবিতে তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল তার স্ত্রী নীতুর চরিত্রটি! একটা পর্যায়ে ঋষি নাকি যশ চোপড়াকে এও বলেছিলেন যে, তিনি যদি ওই ছবিতে ঋষিকে চান, তবে তাঁকে বরং নীতুর চরিত্রটি দেন। শুনে খুবই অবাক হয়েছিলেন যশ চোপড়া। পরে অবশ্য শশী কাপুরের মধ্যস্থতায় ছবিটি করতে রাজি হয়েছিলেন ঋষি।