প্রায় ৬০ বছর পর উদ্ধার হয়েছে কিশোর কুমার অভিনীত একটি হিন্দি সিনেমার দুটি রিল। ছবিটি মুক্তির আলো দেখেছিল ১৯৫৭ সালের ৮ ই মার্চ। কিন্তু ঠিক দশ দিনের মাথায় কিশোর কুমার অভিনীত ‘বেগুনাহ’ ছবিটির প্রদর্শনী প্রেক্ষাগৃহগুলিতে বন্ধ হয়ে যায় মুম্বই হাইকোর্টের নির্দেশে। কারণ, ‘বেগুনাহ’ ছবিটির কাহিনির সঙ্গে ১৯৫৪ সালে মুক্তি পাওয়া হলিউডের ছবি ‘নক অন উড’ ছবিটির হুবহু মিল লক্ষ্য করা যায়।

‘বেগুনাহ’ ছবিটির বিরুদ্ধে মামলা করে আমেরিকার প্যারামাউন্ট পিকচার্স। তারাই ওই ছবির পরিবেশক।   তাদের দাবি ছিল ড্যানি কে এবং মাই জেটারলিং অভিনীত এবং মেলভিন ফ্রাঙ্ক এবং নরম্যান পানামা পরিচালিত ১৯৫৪ সালের ছবি  ‘নক অন উড’ ছবিটি থেকে ‘বেগুনাহ’ ছবিটি নকল করা হয়েছে। কারণ তিন বছর আগে নির্মিত ‘নক অন উড’ ছবিটির কাহিনির সঙ্গে ‘বেগুনাহ’ ছবির কাহিনির হুবহু মিল রয়েছে। শেষ পর্যন্ত প্যারামাউন্ট মামলায় জেতে। মুম্বাই হাইকোর্ট ‘বেগুনাহ’ ছবিটির সমস্ত প্রিন্ট নষ্ট করে ফেলার আদেশ দেয়। 

‘নক অন উড’ ছবিটির কাহিনি ও চিত্রনাট্য লিখেছিলেন ওই ছবির পরিচালক মেলভিন ফ্রাঙ্ক এবং নরম্যান পানামা। অন্যদিকে অনুপচাঁদ শাহ প্রযোজিত এবং নরেন্দ্র সুরি পরিচালিত ‘বেগুনাহ’ ছবির কাহিনি ও চিত্রনাট্য লিখেছিলেন আই.এস. জোহর। ছবিটিতে অভিনয় করেছিলেন কিশোর কুমার, শাকিলা, হেলেন, জয়কিশন দায়াভাই পঞ্চাল, ডেভিড আব্রাহাম প্রমুখ। 

সেই ঘটনার ৬০ বছর পর ছবিটির দুটি রিল খুঁজে পেয়েছে ন্যাশনাল ফিল্ম আর্কাইভ অব ইন্ডিয়া (এনএফএআই)। ন্যাশনাল ফিল্ম আর্কাইভ অব ইন্ডিয়ার পরিচালক প্রকাশ মাগদুম সংবাদমাধ্যমকে জানান, আদালতের আদেশ অনুসারে ছবিটির কোনও প্রিন্ট থাকার কথা নয়, কারণ মুম্বাই আদালত ছবিটির সমস্ত রিল নষ্ট করে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সিনেমাপ্রেমীর কাছ থেকেই ‘বেগুনাহ’-র রিলগুলি পাওয়া গিয়েছে।

প্রকাশ মাগদুমের কথা থেকে আরও জানা যায় যে এই ছবির সঙ্গীত পরিচালক শঙ্করসিংহ রঘুয়ানশি ওরফে শঙ্কর জয়কিষণও বহুকাল ধরে এই ছবির ফুটেজগুলো খুঁজেছিলেন। কারণ এটিই একমাত্র ছবি, যেখানে দু’একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যে তিনি উপস্থিত ছিলেন। ঘটনাচক্রে যে দুটি রিল পাওয়া গিয়েছে সেটি প্রজেক্টর মেশিনে চালিয়ে দেখা গিয়েছে ব্যাপারটা সত্যি। এই ছবির সঙ্গীত পরিচালক শঙ্কর জয়কিষণকে ছবিতে পিয়ানো বাজাতে দেখা যায় এবং অভিনেত্রী শাকিলা নৃত্য পরিবেশন করছেন প্লেব্যাক শিল্পী মুকেশের গাওয়া ‘অ্যায় পেয়াসে দিল বেজুবান’ গানটির সঙ্গে। 

যে দুটি ১৬ মিমি রিল পাওয়া গিয়েছে তা একসঙ্গে করলে দাঁড়ায় ৬০ থেকে ৭০ মিনিট। দুই মাস আগে একটি পাওয়া গিয়েছিল এবং আরেকটি গত সপ্তাহে পাওয়া গিয়েছে। পরের রিলেই ‘অ্যায় পিয়াসি দিল বেজুবান’ গানটি আছে। রিলের অবস্থা খুব বেশি ভালো না হলেও গানটি চালানোর উপযোগী আছে এখনও।  

মুকেশের ‘অ্যায় পেয়াসে দিল বেজুবান’ গানটির পাশাপাশি সংগীত পরিচালক জয়কিষণের পিয়ানো বাজানোর দৃশ্যটি নাকি তখন খুব জনপ্রিয়তা পেয়েছিল এবং এখনো গানটি শোনা হয়। ন্যাশনাল ফিল্ম আর্কাইভ আদালত থেকে সেদিনের রায়ের একটি অনুলিপি পাওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু বিষয়টি খুবই কঠিন কারণ যতক্ষণ না ন্যাশনাল ফিল্ম আর্কাইভ মামলার বিস্তারিত থেকে শুরু করে বিস্তারিত তথ্য  আদালতে হাজির করতে পারবে ততক্ষণ পর্যন্ত এটি খুঁজে পাওয়া আদালতের পক্ষে খুবই দুঃসাধ্য।