ফলাফলটা মোটামুটি জানাই ছিল, সরকারি সিলমোহর পড়ল মঙ্গলবার। ব্রিটেনের শাসক দল কনজারভেটিভ পার্টি তাদের পরবর্তী নেতা তথা দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করল প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী বরিস জনসন-এর নাম। জানা গিয়েছে পার্টির অভ্যন্তরীণ নির্বাচনে ৯২,১৫৩টি ভোট পেয়েছেন চরম ব্রেক্সিটপন্থী জনসন। অন্যদিকে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জেরেমি হান্ট পেয়েছেন মাত্র ৪৬,৬৫৬টি ভোট। ফলে টেরেসা মে পরবর্তী সময়ে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের বাসিন্দা হচ্ছেন বরিস জনসনই।

জিতলেো বরিসের সামনের পথে কিন্তু গোলারপের থেকে কাঁটার সংখ্যাই বেশি। হাতে রয়েছে মাত্র তিন মাস। চলতি বছরের ৩১ অক্টোবরের আগেই ব্রেক্সিট সমস্যার সমাদানে পৌঁছতে হবে। কনজারভেটিভ পার্টির একাংশ-সহ ব্রিটিশ পার্লমেন্টের অধিকাংশ সাংসদ কোনও ট্রান্সিশন চুক্তি ছাড়া ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ছাড়তে রাজি নন। নয়া ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সামনে চ্যালেঞ্জ এই তিন মাসের মধ্য়ে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নকে ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসা।

জয়ের পর অবশ্য জনসেনর গলায় বেশ আত্মবিশ্বাসের সুর শোনা গিয়েছে। লন্ডনের কুইন এলিজাবেথ ২ সেন্টারে দাঁড়িয়ে তিনি সমর্থকদের সামনে, ব্রেক্সিট চুক্তি, দেশকে ঐক্যবদ্ধ করা ও লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিনকে হারানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বলেছেন কোনও ঘুমন্ত দৈত্যের মতোই ফের মাথা তুলে দাঁড়াবে ব্রিটেন। ব্রেক্সিটের ফলে দেশে বাড়তি শক্তি সঞ্চার হবে বলে দাবি করেছেন। আমরাও পারি এই বিশ্বাস ফিরবে দেসবাসীর মধ্যে।

এক বছর আগে পর্যন্ত টেরেসা মে মন্ত্রীসভাতেই ছিলেন জনসন। মে-এর ব্রেক্সিট পরিকল্পনার বিরোধিতা করে মন্ত্রীত্ব ছেড়েছিলেন। এদিন জয়ের পর মে-র মন্ত্রীসভায় কাজ করার সুয়োগকে তিনি তাঁর বড় পাওয়া বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে টেরেসা মে-ও, তাঁর উত্তরসুরীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, পিছন থেকে নতুন সরকারকে তিনি সব রকম  সহায়তা করবেন।