অরবিন্দন বালাকৃষ্ণ, কমরেড বালা নামেই পরিচিত ছিল। ২০১৬ সালে দোষী সাব্যস্ত হয় সে। তারপর ২৩ বছরের জন্য তাঁকে কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একটি মেয়েকে ৩০ বছর ধরে নিজের ফ্ল্যাটে বন্দি করে রেখেছিল।

৮১ বছরের ভারতীয় বংশোদ্ভূত মাওবাদী নেতার মৃত্যু হল লন্ডনের কারাগারে। দীর্ঘ দিন ধরেই কারাগারে বন্দি ছিল অরবিন্দ বালাকৃষ্ণান। টানা ৩০ বছর ধরে নিজের বাড়িতে মহিলাদের বন্দি করে রেখে লাগাতার ধর্ষণ করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল সে। শুক্রবার কারাগারে বন্দি অবস্থাতেই শেষ নিঃস্বাস ত্যাগ করে। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

অরবিন্দন বালাকৃষ্ণ, কমরেড বালা নামেই পরিচিত ছিল। ২০১৬ সালে দোষী সাব্যস্ত হয় সে। তারপর ২৩ বছরের জন্য তাঁকে কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একটি মেয়েকে ৩০ বছর ধরে নিজের ফ্ল্যাটে বন্দি করে রেখেছিল। স্কাই নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বালাকৃষ্ণান আরও অনের মহিলাকে যৌন নিপীড়ণ করেছিল। সেই সময়টা বালাকৃষ্ণান বিশ্বাস করত যে তার হাতে ঈশ্বরের মতই ক্ষমতা ছিল। 

১৯৭৫ সালে কেরলে জন্মগ্রহণ করেছিল বালাকৃষ্ণান। প্রথমে সে সিঙ্গাপুরে গিয়েছিল। তারপর সেখান থেকে চলে যায় ইংল্যান্ডে। দক্ষিণ লন্ডনেই থাকত। মার্কসবাদ, লেনিনবাদ, ও মা সে তুং-এর দর্শন মেনে ওয়ার্কার্স ইনস্টিটিউট নামে একটি গোপন মাওবাদী সংগঠন তৈরি করেছিল। 


কারাগার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এইচএমপি ডার্টমুর কারাগারে বন্দি ছিল বালাকৃষ্ণান। সেখানেই তার মৃত্যু হয়। তার বিচারের সময় পুলিশের পক্ষ থেকে জানান হয়েছিল দুই মহিলাকে বালাকৃষ্ণান ধর্ষণ করেছিল। যারা ছিল তার অনুগামী। বালাকৃষ্ণান অনুগামীদের বিশ্বাস নিয়ে রীতিমত ছিনিমিনি খেলেছিল। সংবাদ সংস্থা বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সেই সময় জ্যাকি নামে একটি অতিপ্রাকৃত শক্তির কথা অনুগামীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছিল বালাকৃষ্ণান। একই সঙ্গে বলেছিল তার কথা যদি অমান্য করা হয় তাহলে প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটে যাবে। 


বালাকৃষ্ণানের মেয়ে ক্যাটি মরগান। যিনি দীর্ঘদিন নিজেকে প্রচারের আলো থেকে সরিয়ে রেখেছিলেন, তিনি বলেছেন তাঁর বাবাকে একজন ভয়ঙ্কর মানুষ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। বলেছেন, তাঁর বাবা অকজন অমানবিক ব্যক্তি ছিল। অন্য কাউকে মান সম্মান দেখাত না। বাবার কাছে থাকাকে তিনি খাঁচায় বন্দি পাখির সঙ্গেও তুলনা করেছেন। তার অভিযোগ বাবার বাড়িতে বন্দি অবস্থায় থাকার সময় তাকে মারধর করা হয়েছিল। স্কুলে যাওয়াও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও জানিয়েছেন তাঁর মা ছিল তার বাবা বালাকৃ্ষ্ণানের এক অনুগামী। 

কিন্তু ২০১৩ সালে তিনি বাবার বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। লন্ডন থেকে চলে আসেন লিডসে। সেখানেই নতুন করে শুরু করেন জীবন। মেয়ের অভিযোগ ছড়াও বালাকৃষ্ণানকে দুই মহিলার ওপর যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সবমিলিয়ে ১৬টি মামলা ছিল মাওবাদী নেতার বিরুদ্ধে।