বাড়ির ভিত খুঁড়তে গিয়ে যে এমন কাণ্ড ঘটবে, তা কে জানত! পূর্ব বর্ধমানের ভাতারে হাজির হলেন রাজ্য পুরাতত্ত্ব বিভাগের এক আধিকারিক। স্থানীয় মাহাতা গ্রামে গিয়ে সুড়ঙ্গটি পরীক্ষা করে দেখলেন তিনি। সুড়ঙ্গের কিছুটা অংশ খোঁড়ার পর চলল মাপজোক। ঘটনাস্থল থেকে চারকোল, মাটি ও ইঁটের অংশ সংগ্রহ করেছেন সিনিয়র আর্কিওলজিস্ট প্রকাশচন্দ্র মাইতি। 

ভাতারের মাহাতা গ্রামেই থাকেন জিয়ারুল মল্লিক। শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁর বাড়িতে যখন তৈরির জন্য ভিত খোঁড়া হচ্ছিল, তখন আচমকাই ধস নামে। মাটি সরাতেই বিশাল একটি সুড়ঙ্গ দেখতে পাওয়া যায়। ঘটনাটি জানাজানি হতেই রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে গ্রামে। সুড়ঙ্গ দেখতে ভিড় জমান বহু মানুষ। কিন্তু গ্রামের নিচে একটি সুড়ঙ্গটি কে তৈরি করল? তা নিয়ে ধোঁয়াশা এখনও কাটেনি।

সোমবার মাহাতা গ্রামে গিয়ে সুড়ঙ্গটি পরীক্ষা করে দেখেন রাজ্য পুরাতত্ত্ব বিভাগের সিনিয়র আর্কিওলজিস্ট প্রকাশচন্দ্র মাইতি। মাপজোক করে জানা গিয়েছে, সুড়ঙ্গটি দুই ফুট লম্বা ও সাত ফুট চাওড়া। উচ্চতা চার ইঞ্জি। পুরাতত্ব বিভাগের ডিরেক্টর সুদীপ ঘোষ জানিয়েছেন, মাটির নিচে খিলানের কাঠামোর হদিশ মিলেছে। তা থেকে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, সুড়ঙ্গ নয়, এটি সম্ভবত সমাধিক্ষেত্র। তবে নিশ্চিত করে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। আরও পরীক্ষার প্রয়োজন। আপাতত জায়গাটি ঘিরে রাখা হয়েছে। এদিকে এই ঘটনার পর রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে দিয়েছে ভাতারের মাহাতা গ্রাম। সুড়ঙ্গ দেখতে গ্রামে ভিড় জমাচ্ছেন অনেকেই। বাড়তি রোজগারের আশায় জিয়ারুল মল্লিকের বাড়ির পাশে খাবারের দোকান খুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আরও পড়ুন: অপারেশন থিয়েটার ভাসছে শৌচাগারের জলে, বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজে বিপাকে রোগীরা

উল্লেখ্য, পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের মাহাতা গ্রামটি বেশ পুরানো। শোনা যায়, স্থানীয় উজানিনগরে নাকি বেহুলা বাপের বাড়ি ছিল। এলাকায় ইসলামি শাসনকালের স্থাপত্যও দেখতে পাওয়া যায়। হুসেন শাহের আমলের মসজিদ রয়েছে ভাতারে। মাহাতা গ্রামের সুড়ঙ্গটি কোনও ঐতিহাসিক স্থাপত্যের অংশ নয় তো? উত্তর জানা নেই কারও।