রাজ্য বিধানসভার ২০০ নং কেন্দ্র আরামবাগ।  ২৯ নং লোকসভা আসন আরামবাগের অন্তর্ভুক্ত এই বিধানসভাটি তফশিলি জাতিদের জন্য সংরক্ষিত।

দেশের প্রথম নির্বাচনে, ১৯৫১ সালে এখান থেকে জিতেছিলেন অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী। তারপর থেকে এই এলাকা বামশুখা ছিল দীর্ঘদিন। একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল কংগ্রেসের। মাঝে কেবল ইন্দিরাপতনের ভোটে, ১৯৭৭ সালে এই আসন থেকে জয়ী হন জনতা পার্টির প্রার্থী।

রাজ্যে ১০ বছর বাম শাসনের পর আরামবাগ বিধানসভা কেন্দ্রে শিকে ছেঁড়ে সিপিএমের। ১৯৮৭ সালের ভোটে এখান থেকে জয়ী হন সিপিএম প্রার্থী। ২০০৬ সাল পর্যন্ত তারা নিজেদের দখলে রেখেছিল আরামবাগ। বাম পতনের বছরে, ২০১১ সালে এখান থেকে জয়ী হন তৃণমূল কংগ্রেসের কৃষ্ণচন্দ্র সাঁতরা। ২০১৬ সালের ভোটেও জয়তিলক তৃণমূলের কৃষ্ণচন্দ্রেরই কপালে ছিল।

২০২১ সালের ভোটে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন সুজাতা মণ্ডল খান। সংযুক্ত মোর্চার হয়ে সিপিএমের প্রার্থী শক্তিমোহন মালিক। বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন মধুসূদন বাগ।

সুজাতা সংবাদ শিরোনামে এসেছেন তাঁর স্বামী সৌমিত্র খানের সঙ্গে প্রকাশ্য বচসায় জড়িয়ে। সৌমিত্র বিজেপির সাংসদ। সুজাতাও ছিলেন বিজেপিতে। শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগ দেবার পরেই তৃণমূল ভবনে গিয়ে দল পাল্টান সুজাতা। শুধু তাই নয়, সাংবাদিকদের সামনে সৌমিত্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। পাল্টা সাংবাদিক সম্মেলন করে আবেগবিহ্বল হয়ে পড়েন সৌমিত্র।
অবশ্য এর আগে ফেসবুকে যথেষ্ট সক্রিয় ছিলেন সুজাতা। মাঝেমাঝেই তাঁর রোষ আছড়ে পড়ত মমতার প্রতি, ফেসবুক লাইভে। এবার সময় পাল্টেছে। তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগের যে স্রোত চলছে, তার প্রতিস্রোতে গিয়ে সুজাতা ঘাসফুলে যোগ দিয়েছেন পদ্ম থেকে। বিজেপিতে পদহীন, ক্ষুব্ধ সুজাতাকে টিকিট দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

২০১১ সালের ভোটে বিজেপি এখানে ৭ হাজারের কিছু বেশি ভোট পায়। ২০১৬ সালের ভোটে পায় ১৭ হাজারের বেশি ভোট। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে, এই কেন্দ্রে ৪ হাজারেরও কম লিড ছিল তৃণমূলের।

এই অবস্থায়, পদ্ম যখন ক্রমশ ফুটছে আরামবাগ বিধানসভায়, তখন দলত্যাগী সুজাতা ঘাসফুলে কতটা জল দিতে পারবেন, তা বলবে তৃতীয় দফার ভোট, ৬ এপ্রিল।