সমীকা মৈত্রঃ এখনও ভাঙাচোরা রাস্তা, এখনও জলের কষ্ট। লাল থেকে সবুজ হয়েও লাভ হয়নি কিছুই। বাঁকুড়া জেলার রাইপুর সেই তিমিরে। বার্ধক্য-বিধবা ভাতার টাকা বা রেশনের সুবিধা তবু মিলেছে। কিন্তু কাজ কই? লোকে খাবে কী? উন্নয়নের আশায় ফের রং বদলে গত লোকসভা ভোটে বিজেপিকে ভোট দিল সকলে। কিন্তু তারপরেও এলাকার উন্নয়নে ফুটোকড়ি কাজ হয়নি। এবারের ভোটে তাই দিশেহারা রাইপুরবাসী, কোনও রঙের উপরেই আর ভরসা নেই তাদের। বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত রাইপুর বিধানসভা রাইপুর ও সারেঙ্গা ব্লক এলাকা নিয়ে গঠিত। এসটি প্রার্থীর জন্য সংরক্ষিত এই আসনে এবার তৃণমূলের হয়ে লড়ছেন মৃত্যুঞ্জয় মুর্মু, বিজেপি-র প্রার্থী সুধাংশু হাঁসদা আর ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট থেকে জোটের তরফে দাঁড়িয়েছেন মিলন মাণ্ডি।  

রাইপুর বিধানসভা আসনে কে-কত বার জয়ীঃ

স্বাধীন ভারতের প্রথম দুই নির্বাচন অর্থাৎ ১৯৫২ ও ৫৭ সালে এখানে যুগ্ম আসন ছিল। প্রথমবার এই আসন থেকে নির্দল প্রার্থী হিসাবে যদুনাথ মুর্মু ও কংগ্রেসের যতীন্দ্রনাথবাবু জিতেছিলেন। ১৯৫৭ সালে কংগ্রেসের যদুনাথ মুর্মু ও সুধারানি দত্ত জেতেন। ১৯৬২ সালে সুধারানিদেবীই ফের জেতেন এই আসনে। এরপরে ১৯৬৭ ও ৬৯-এ এই আসন থেকে জেতেন বাংলা কংগ্রেসের ভবতোষ সরেন। ১৯৭১ সালে ঝাড়খণ্ড পার্টির বাবুলাল সরেন এই আসনে জেতেন। ১৯৭২ সালে সিপিআই প্রার্থীর্ মানিকলাল বেসরা এই আসন থেকে জেতেন। এরপর থেকে এই আসনে বামেরাই জিতে এসেছে বরাবর। ১৯৭৭ সালে সিপিআই(এম) প্রার্থী অপীন্দ্র কিস্কু হারিয়ে দেন কংগ্রেসের গঙ্গাধর মুর্মুকে। তারপর পরপর সাত বার (১৯৮২, ১৯৮৭, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৬, ২০১১) এই আসন থেকে জেতেন সিপিআই(এম) প্রার্থী উপেন কিস্কু। ২০১১ সালে প্রবল তৃণমূল ঝড়ের সময় মাথায়-মাথায় এই আসন থেকে বেরিয়ে যান উপেনবাবু। তিনি সেবার পেয়েছিলেন ৬৯,০০৮টি ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূলের প্রমীলা মুর্মু পেয়েছিলেন ৬৮,৮২৬টি ভোট। তৃতীয় স্থানে থাকা জেএমএম প্রার্থী ক্ষেত্রমোহন হাঁসদা অনেকটাই পিছিয়ে ছিলেন সেখানে (৭১৭৬)। আর বিজেপি প্রার্থী পেলারাম মুর্মু পেয়েছিলেন ৩,৭৭০টি ভোট। ভোটে জিতলেও এলাকায় সিপিএমের সংগঠন ক্রমশ দুর্বল হতে থাকে এরপর। ২০১৬ সালের ভোটে তৃণমূল জেতে এই আসনে।   

রাইপুর বিধানসভা ২০১৬-র ফল-
রাইপুর বিধানসভা কেন্দ্রে ২০১৬ সালে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী বীরেন্দ্রনাথ টুডু। তার প্রাপ্ত ভোট ছিল ৮৯৮৪১। শতাংশের বিচারে যা ৫০.৬৬ শতাংশ। জয়ের মার্জিন ছিল ২৬৭২২। নিকটতম প্রতীদ্বন্দ্বী সিপিএমের দিলীপকুমার হাঁসদা পেয়েছিলেন ৬৩,১১৯টি ভোট। বিজেপি ছিল তৃতীয় স্থানে।


    
২০১৯-এর লোকসভা ভোটের নিরিখে এই বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ২১৬০৩৪। ভোট পড়েছিল ১৮৪৪১৯। বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী ডঃ সুভাষ সরকার এই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ৮৩৭৭৪টি (৪৫.৪২) ভোট পেয়েছিলেন। তৃণমূল প্রার্থী সুব্রত মুখোপাধ্যায় পেয়েছিলেন ৮০৪২৩টি ভোট। সিপিএমের অমিয় পাত্র পেয়েছিলেন ১১৪১৮টি ভোট। ফলে ২০১৯ এর পর রাইপুর বিধানসভার ভোট চিত্র অনেকটাই বদলেছে। এবার দেখার বিষয় এটাই ২০২১-এ সবুজ, গেরুয়া না লাল কোন রংকে বেছে নেয় রাইপুরবাসী।