তাপস দাস: ১১৬ নং বিধানসভা কেন্দ্র বিধাননগর বারাসাত লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত। বিধাননগর পুরসভা ও দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৯ ও ২০ নং এবং ২৮ থেকে ৩৫ নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত বিধাননগর কেন্দ্র। ২০১১ সালে এই বিধানসভা কেন্দ্রের পত্তন হয়। ডিলিমিটেশন কমিশন বেলগাছিয়া পূর্ব বিধানসভা বিলোপ করে এই বিধানসভা কেন্দ্র তৈরির সুপারিশ করেছিল।

কেউ কেউ বলছেন, বিধাননগর বিধানসভা এবার মিনি নন্দীগ্রাম। নন্দীগ্রামের দোর্দণ্ডপ্রতাপ শুভেন্দু যেমন দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, তেমনই বিধাননগরের দাপুটে নেতা সব্যসাচীও তৃণমূল ছেড়ে পদ্মশিবিরে হাত মিলিয়েছেন। তবে শুভেন্দু অধিকারীর অনেক আগেই বিজেপিতে গিয়েছিলেন সব্যসাচী দত্ত। সেই ২০১৯ সালে। লোকসভা ভোটের পরে পরেই।

২০১১ সালে বিধাননগর বিধানসভার প্রথম ভোটে এখান থেকে জিতেছিলেন এক সময়ে সুভাষ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ সুজিত বসু। তিনি সিপিএম প্রার্থী পলাশ দাসকে হারিয়েছিলেন ৩৫ হাজারেরও বেশি ভোটে। ২০১৬ সালের নির্বাচন অবশ্য সুজিত বসুর কাছে তত সহজ হয়নি। সেবার তাঁর বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছিলেন কংগ্রেসের অরুণাভ ঘোষ। তাঁকে সমর্থন করেছিল বামেরা। অরুণাভ হেরেছিলেন ৭ হাজারেরও কম ভোটে। সুজিত রাজ্যের বিদায়ী দমকল মন্ত্রীও বটে।

দুবারের বিধায়ক সুজিতের লড়াই যে সব্যসাচীর সঙ্গে, তিনিও দুবারের বিধায়ক। রাজারহাট নিউটাউন কেন্দ্রে তিনি জিতেছেন ২০১১ ও ২০১৬ সালে। সুজিতের সঙ্গে সম্পর্ক ভাল ছিল না সব্যসাচীর। নবগঠিত বিধাননগর পুরসভার দায়িত্ব পেয়েছিলেন সব্যসাচী। সুজিত বসুরও নজর ছিল ওই পদে, এমনটাই মনে করা হয়। এদিকে বারাসাত কেন্দ্রের সাংসদ তৃণমূল কংগ্রেসের কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সঙ্গেও বনিবনা ছিল না সব্যসাচীর। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে কাকলি বিধাননগর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির চেয়ে প্রায় ১৯ হাজার ভোটে পিছিয়ে ছিলেন। শোনা যায়, তখন থেকেই বিজেপির হয়ে কলকাঠি নাড়ছিলেন সব্যসাচী। দলের মধ্যেকার প্রতিপক্ষকে নিজের এলাকায় পিছিয়ে দেওয়ার চক্রী তিনিই, এমনটাই এখন অনেকে মনে করেন।

বিধাননগর বিধানসভা হালে তৈরি হয়েছে বটে, কিন্তু এ বছর অন্তত এই কেন্দ্রে নজর থাকবে সব পক্ষের। ১৭ এপ্রিল, পঞ্চম দফায় এই কেন্দ্রের ভোট গণনা। এই কেন্দ্রে কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছেন অভিষেক ব্যানার্জি। তাঁকে বারে বারে বোঝাতে হচ্ছে, 'ভাইপো নই'।