প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের কোনও প্রতিষেধক না থাকায় মারা যাচ্ছেন মানুষ। এমন অবস্থায় করোনা রুখতে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে নানা ধরনের গুজব। করোনা ঠেকানোর গুজবে কান দিয়ে কেনিয়ায় ৫৯ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। কেনিয়া টুডে নামে একটি সংবাদপত্রে এই খবর প্রকাশ হতেই তাতে হইচই শুরু হয়ে যায়। আশ্চর্যের বিষয় হল দাবি করা হয়েছে এই ঘটনাটি দক্ষিণ আফ্রিকায়। যদিও সেই দেশের কোনও সংবাদমাধ্যমে এই খবরটি প্রকাশিত হয়নি। 

কেনিয়া টুডে-র এই চাঞ্চল্যকর দাবি প্রকাশ্যে আসতেই অন্যান্য সংবাদমাধ্যম-ও খবরের পিছনো দৌড়তে থাকে। কিন্তু ঘটনার কোনও সত্যতা প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি। তবে এই ঘটনায় দক্ষিণ আফ্রিকার এক পাদ্রীর নাম সামনে এসেছে, যার নাম রুফুস ফালা। এই পাদ্রী-কে নিয়ে এর আগেও এমন খবর বেরিয়েছিল। কয়েক বছর আগে এই পাদ্রীর বেশকিছু অনুগামী জিক এবং ডেটল খেয়েছিলেন। তবে, এই ঘটনায় মাকগোদু-র এ কে স্ক্রিস্টান চার্চ-এর অবতারণ করা হয়েছে। কিন্তু, দক্ষিণ আফ্রিকা বা কেনিয়ায় এমন কোনও চার্চের হদিশ গুগল ম্যাপে মেলেনি। সেখানে মাকগোদু লিখলে ভারতের কর্ণাটকের একটি স্থান-কে দেখাচ্ছে। 

সংবাদপত্রে প্রকাশিত এই ভাইরাল রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে দক্ষিণ আফ্রিকায় খ্রিস্টান পাদ্রী রুফুস ফালার উপদেশ অনুযায়ী ডেটল খেয়ে ৫৯ ভক্ত প্রাণ হারান। আশঙ্কাজনক আরও ৪। নাইরোবি থেকে প্রকাশিত দৈনিক কেনিয়া টুডে-তে গত বুধবার এই খবরটি প্রকাশিত হয়। তবে এই খবরটি প্রচার হওয়ার পর আফ্রিকার থেকে প্রকাশিত একটি দৈনিক জানিয়েছে প্রচারিত ওই খবর এবং ছবিটি সম্পূর্ণ ভুয়ো। ওই খবরের কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই। আর প্রচারিত ওই খবরের সঙ্গে দেওয়া ছবিটি মূলত ২০১৬ সালের। সেই সময় দ্যা সান পত্রিকা একটি সংবাদ প্রচার করেছিল, যেখানে রোগমুক্তির জন্য ডেটল খাওয়ার কথা বলা হয়েছিল।

কেনিয়া টুডে তাদের রিপোর্টে আরও দাবি করেছে এই মর্মান্তিক ঘটনার পরও ফাদার রুফুস ফালা দাবি করেছেন, তিনি জানতেন ডেটল খাওয়ার পর কি  মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। কিন্তু তাঁর কথা, সৃষ্টিকর্তা নাকি তাকে ডেটল খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সবার আগে তিনি নিজে-ও ডেটল খেয়েছেন বলে দাবি করেন ফাদার রুফুস ফালা। তবে তিনি কতটা পরিমাণ ডেটল খেয়ে বেঁচে আছেন আর তাঁর ভক্তরা কতখানি খাওয়ার কারণে মারা গেছেন তা জানা যায়নি। সবচেয়ে বড় কথা এই খবরের কোনও সত্যতাই প্রমাণ হচ্ছে না। যার জেরে আপাতত একে রহস্য বলেই সংবাদ দুনিয়ায় অভিহিত করা হয়েছে।