দিনে দিনে বাড়ছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। শিশু থেকে বৃদ্ধ কেউই বাদ যাচ্ছে না। সকলেই ত্রস্ত। মেনে চলছে প্রয়োজনী স্বাস্থ্য বিধি। কিন্তু তাও পার পাওয়া যাচ্ছে কই?  মুম্বইতে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত মাত্র তিন দিনের সদ্যোজাত শিশু। গত ২৬ মার্চ চেম্বুরের একটি হাসপাতালে জন্ম হয় শিশুটির। একদিন পর থেকেই শিশুটির শরীরে করোনাভাইরাসে উপসর্গ দেখা দিতে থাকে। চিকিৎসকরা শিশুর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করাতে চাইলে রাজি হয়ে যায় পরিবারের সদস্যরা। সেই সময়ই ধরা পড়ে মারাত্মক ছোঁয়াচে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দুধের শিশুও। আক্রান্ত হয়েছে ছোট্ট শিশুটির মাও। মা ও শিশুর অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় দুজনকেই প্রথমে নিয়ে আসা হয় খুরলার একটি সরকারি হাসপাতালে। কিন্তু শারীরিক অবস্থান উন্নতি না হওয়ায় তাদের স্থানীন্তরিত করা হয় কস্তুরবা হাসপাতালে। এই হাসপাতালে রীতিমত যুদ্ধকালীন তৎপরতার সঙ্গে করোনাভাইরাসের চিকিৎসা চলছে। বর্তমানে মা ও সদ্যোজাত সেখানেই ভর্তি রয়েছে। 

করোনাভাইরাসে সংক্রমিত শিশুর বাবা দাবি করেছেন চেম্বরের হাসপাতালে নূন্যতম স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়নি। তার বাবা জানিয়েছেন, এক চিকিৎসক তাঁকে ফোন করে জানিয়েছিলেন যে ঘরে তাঁর স্ত্রী ও সদ্যোজাতকে সরানো হয়েছে সেই ঘরেই ছিল করোনা আক্রান্ত রোগী। তাই সেই ঘরে যেতে রাজি হচ্ছে না কোনও চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মী। অথচ হাসপাতালের সেই রুমের ভাড়া হিসেবে তাঁদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ৬৫ হাজার টাকা।  সেখানেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর বিছানাই বরাদ্দ করা হয়েছিল সদ্যোজাত ও তার মায়ের জন্য। সেখান থেকেই দুজনের শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। শিশুর বাবার এই অভিযোগের পর বন্ধ রাখা হয়েছে চেম্বুরের হাসপাতাল। পুরো হাসপাতালেই চলছে সাফাই অভিযান। 

শিশুটির বাবা একটি রেস্তোরাঁয় ম্যানেজারের পদে কর্মরত। করোনাভাইরাসের প্রকোপ মপম্বইতে বাড়তে থাকায় ও স্ত্রী অন্তঃস্বত্ত্বা থাকায় তাদের পরিবার বেশ কয়েক দিন ধরেই ঘরবন্দি রয়েছে। প্রায় দশ দিন ধরেই তাঁরা ঘরবন্দি ছিলেন। তাই বাইরে থেকে স্ত্রী ও সদ্যোজাত সংক্রমিত হওয়ার কোনও সুযোগ নেই বলেই জানিয়েছে আক্রান্তের পরিবার। তবে স্ত্রী ও সদ্যোজাতের পাশাপাশি বাবাকেও কস্তুরবা হাসপাতালে কোয়ারান্টাইনে রাখা হয়েছে। 

আরও পড়ুনঃ লকডাউনের ৮ম দিনে করোনাভাইরাসের ভয়ঙ্কর ছবি, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৩৮৬

আরও পড়ুনঃ করোনাতঙ্কের মধ্যেই ফিরল দিল্লি হিংসা, চক্রান্তের দায়ে গ্রেফতার জামিয়ার গবেষক

বুধবারই মুম্বইতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ৩৩ জনের সন্ধান পাওয়া গেছে। সবমিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৩৫। মৃত্যু হয়এছে ১৬ জনের। একই ছবি গোটা দেশে। বুধবারে আক্রান্তের সংখ্যা ১৬ হাজার ছাড়িয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ৩৮ জনের।