দেশে বর্তমানে ক্রমেই বেড়ে চলেছে করোনা সংক্রমণের সংখ্যা। আর কোভিডের দ্বিতীয় তরঙ্গে, দেখা যাচ্ছে বেশিরভাগ রোগীরই অক্সিজেনের প্রয়োজন পড়ছে। আর তাই বর্তমানে দেশের প্রায় সর্বত্র, অক্সিজেন এবং কোভিড-১৯ চিকিৎসার বিভিন্ন ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের ব্যাপক চাহিদা দেখা যাচ্ছে। আর এই চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতির ভরপুর সুযোগ নিতে নেমে পড়েছে একদল অসাধু ব্যবসায়ী। ব্যাপক হারে চলছে কালোবাজারি। আর এর মধ্যেই সাহায্য়ের বিনিময়ে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও উঠল।

সম্প্রতি, দিল্লির এক মহিলা, সোশ্য়াল মিডিয়ায় এক ভয়াবহ ঘটনার কথা প্রকাশ করেছেন। ওই মহিলা টুইট করে দাবি করেছেন, তাঁর এক বন্ধুর বোনকে অক্সিজেন সিলিন্ডারের বিনিময়ে সহবাসের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তাঁরা থাকেন দিল্লির এক অভিজাত কলোনিতে। অভিযোগকারিনীর বন্ধুর বাবা করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন। আরও অনেকের মতোই তাঁরও অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়েছিল। সেই কারণেই ওই মহিলার বন্ধুর বোন, হন্যে হয়ে একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার খুঁজছিলেন। সেইসময়ই ওই অভিজাত কলোনির এক প্রতিবেশী, তাঁকে সহবাসের প্রস্তাব দিয়েছিল। তার সঙ্গে সহবাস করলে, সে একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার দেবে বলে জানিয়েছিল। টুইটে এই কতা জানিয়ে ওই মহিলা হ্যাশট্যাগ দিয়েছেন, 'হিউম্যানিটি ইজ ডেড', অর্থাৎ মানবতার মৃত্যু ঘটেছে।  

এই সোশ্য়াল মিডিয়া পোস্টে, নেটিজেনদের একাংশ যারপরনাই ক্ষুব্ধ। সোশ্যাল মিডিয়াতেই তাঁরা সেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। অনেকে ওই মহিলাকে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন। কেউ কেউ ওই এলাকার আবাসিক কল্যাণ সমিতির কাছেও যাওয়ার কথা বলেছেন। কেউ কেউ আবার বলেছেন, ওই ব্যক্তির নাম প্রকাশ্যে এনে, জনসমক্ষে তাকে লজ্জিত করা হোক। তবে অভিযোগকারিনী, এই বিষয়ে কোনও ইতিবাচক আলো দেখতে পাননি। তাঁর অসহায় প্রশ্ন, এই ব্যক্তির আর কী শাস্তি হবে, প্রশ্নের মুখে পড়লে তো সে এই বিষয়টি অস্বীকার করবে।

তবে, এটি যে একেবারেই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, তা নয়। গত ১৪ এপ্রিল, মুম্বইয়ের আন্ধেরিতে, এক কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী শ্লীলতাহানির অভিযোগ করেছিলেন। সংক্রমিত ওই মহিলাকে একটি হোটেলে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছিল। অভিযুক্ত ব্যক্তি সেই হোটেলের ঘরে ঢুকে পড়ে ওই মহিলাকে শ্লীলতাহানি করার চেষ্টা করেছিল এবং তাঁর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের দাবি করেছিল বলে অভিযোগ। আবার, শুক্রবারই জানা গিয়েছে, গত এপ্রিলের শুরুতে মধ্যপ্রদেশের ভোপালে এক সরকারি হাসপাতালের কোভিড ওয়ার্ডের মধ্যেই ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন এক কোভিড রোগী। ২৪ ঘন্টার মধ্য়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল।