ভারতের লকডাউন নিয়ে উদ্বিগ্ন  অমর্ত্য সেন, অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রঘুরাম রাজনগরিব ভারতের পাশে দাঁড়াতে পরামর্শ

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রুখতে লকডাউনের পথেই হেঁটেছে ভারত। কিন্তু এই লকডাউন সাময়িক নয়। আরও কিছুদিন চলবে। এই সময়কালে ভারতের দরিদ্র মাবনুষের জীবনে তা তীব্র প্রভাব ফেলছে। যা ইতিমধ্যেই উদ্বেগ বাড়িয়েছে দুই নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন ও অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনে। ওই তালিকায় রয়েছেন আরও এক বিখ্যাত ভারতীয় অর্থনীতিবিদ রঘুরাম রাজন। তিন জনই ভারতের একটি নামি সংবাদ পত্রকে চিঠি লিখে ভারত সরকারকে দেশের দরিদ্র মানুষের প্রয়োজন অনুসারে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। 

তাঁদের কথায় আন্তর্জাতিক এই মহামারীর কারণে বিশ্ব অর্থনীতি সংকটে। যার প্রভাব পড়েছে ভারতেও। আর করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারত লকডাউনের পথেই হেঁটেছে। কিন্তু এই লকডাউন ভারতবাসীর জীবন ও জীবিকার ঝাঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। লকডাউন আরও কিছুদিন চলবে, বর্তমান এইটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। তাই এই সময় যদি সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া না হয় তাহলে দেশের প্রচুর মানুষ সংকটে পড়বে। অনাহার বাড়বে। তিন অর্থনীতিবিদের কথায় ২০২০ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ফুড কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়ার হিসেব অনুযায়ী দেশে প্রায় ৭০ মিলিয়ন টন খাবার মজুত ছিল। যা গোটা দেশের চাহিদার তুলনায় প্রায় তিন গুণবেশি। আর কয়েক দিনের মধ্যেই রবি শস্য ওঠার কথা। তাই কৃষি বাজার গুলিতে ক্রয় করাও যায়। জরুরী অবস্থার সময় এই মজুত খাবার প্রদান করা খুব একটা ব্যয়বহুল হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক নয়। তা পাব্লিক অ্যাকাউন্ট সিস্টেমেরই একটা অঙ্গ। 


কেন্দ্রীয় সরকার আগামী তিন মাসের জন্য ব্যক্তি প্রতি পাঁচ কিলো খাদ্য শস্য বিলির যে প্রকল্প নিয়েছে তাকে তিন অর্থনীতিবিদ স্বাগত জানিয়ে বলেনেছেন এই সমস্যা তিন মাসের থেকেও বেশি সময় থাকতে পারে। তাঁরা বরাদ্দ আগামী ৬ মাসের জন্য বাড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। পাশাপাশি দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী সকল মানুষকেই খাবার ও নগদ অর্থ দেওয়ার পক্ষেই সাওয়াল করেছেন তারাঁ। বর্তমানে কেন্দ্র সরকার তাদেরই খাবার প্রদান করছে যাঁদের রেশন কার্ড আছে অথবা যাঁদের নাম প্রধানমন্ত্রী গরীব কল্যান যোজনায় নাম রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের কথায় কেন্দ্রের এই বাছাবাছিতে দেশের অনেক মানুষই অভুক্ত থেকে যাচ্ছেন। 

অভিবাসী শ্রমিকদের দুরাবস্থার কথা তুলে ধরেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদরা। তাঁদের কথায় অভিবাসী শ্রমিক ও বাড়ি থেকে দূরে থাকা দরিদ্র মানুষের জন্য প্যাব্লিক ক্যান্টিন স্থাপন করতে পারে কেন্দ্র। শিশুদের খাবার বিরতণের জন্য মিড ডে মিল ও এলাকার স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমে কাজ করতে পারে কেন্দ্র। মহামারীর কারণ বহু মানুষের জীবিকা শেষ হয়ে যেতে পারে। অনেকেরই কমতে পারে আয়। তাই সরকারকে যথেষ্ট সংবেদনশীল হতে হবে বলেও মনে করেন তাঁরা। 

আর কিছুদিন পরেই কৃষির মরশুম শুরু হবে। তাই কৃষকের অর্থের প্রয়োজন মেটানোর দিকেও বিশেষ নজর দিতে হবে সরকারকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নগদ লেনদেনের ওপর জোর দিয়েছেন তাঁরা। শুধু কৃষক নয় শহুরে দরিদ্র, শ্রমিক ভূমিহীন কৃষক সকলেরই প্রতি সংবেদনশীল হওয়ার পরামর্শই দিয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকারকে। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred