নিদারুণ কোভিড সংকটে ভারত। আর এই অবস্থায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশের পাশে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন দেশ। সব মিলিয়ে বিদেশ থেকে প্রায় ৩,০০০ টন-এর চিকিৎসা সহায়তা এসেছে আমাদের দেশে। কিন্তু, এই বৈদেশিক সহায়তা বিতরণ নিয়েই মহা-বিতর্কের মুখে পড়েছে মোদী সরকার। যখন দেশের প্রায় প্রতিটি চিকিত্সা প্রতিষ্ঠান অক্সিজেন, চিকিত্সা সরঞ্জাম এবং করোনার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের জন্য হাপিত্তেশ করে মরছে, সেই সময় এই বৈদেশিক সহায়তা বিতরণে অযথা দেরি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকী অবিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির ক্ষেত্রেই এই বিলম্ব করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।  

কেন্দ্রীয় সরকার যদিও এই দাবি মানতে নারাজ। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৩১ টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলেই সমানভাবে ২৪ টি বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রায় ৪০ লক্ষ চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। মোট ৮৬টি মেডিকেল প্রতিষ্ঠানে এই সহায়তা যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই সারাদেশের মোট ৩৮টি মেডিকেল প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই এই সরঞ্জামগুলি পেয়ে গিয়েছে। 'ইন্ডিয়া টুডে'র এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১,৬৫৬টি অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর, ২০ টি বড় মাপের অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর, ৯৬৫টি ভেন্টিলেটর, ৩৫০টি বড়় অক্সিজেন সিলিন্ডার এবং মনিটর-যুক্ত শয্যা, বাইপ্যাপ মেশিন, পিএসএ অক্সিজেন প্ল্যান্টস, পালস অক্সিমিটার, ফ্ল্যাভিপারিভির এবং রেমডেসিভির ওষুধ, পিপিই, এন-৯৫ মাস্ক ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজ্যে পাঠানো হয়েছে। তবে কোন রাজ্যে কোন পণ্য কত সংখ্যায় পাঠানো হয়েছে, তার কোনও হিসাব এখনও কেন্দ্রের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি।

উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ, কর্ণাটক, বিহারের মতো রাজ্য থেকে জানানো হয়েছে অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর, ক্রায়োজেনিক অক্সিজেন ট্যাঙ্কার, ভেন্টিলেটর এবং অন্যান্য চিকিত্সাগত প্রয়োজনীয় সামগ্রী পেয়েছে বলে জানিয়েছে। এর মধ্যে কিছু বিদেশী সহায়তা এবং বাকিটা কেন্দ্রীয় সরকারি সহায়তা। তারমধ্যে বিদেশী সহায়তা কতটা, তার অবশ্য কোনও হিসাব নেই। তবে, ঠিক উল্টো কথা শোনা যাচ্ছে রাজস্থান, পঞ্জাব, ঝাড়খন্ডের মতো অবিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি থেকে। এই রাজ্যগুলির প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রের পক্ষ থেকে আদৌ কোনও চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে কি না, তা তাদের জানা নেই।

রাজস্থান পরিষ্কার জানিয়েছে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে তাদের জন্য কী বরাদ্দ করা হয়েছে, সেই সংক্রান্ত কোনও তথ্য তাদের কাছে নেই। ঝাড়খণ্ড জানিয়েছে কিছু রেমডিসিভির ইনজেকশন ছাড়া কেন্দ্রের থেকে আর কোনো সহায়তা তারা পায়নি। মহারাষ্ট্র জানিয়েছে, সহায়তা পাঠানোর বিষয়ে কেন্দ্রের থেকে একটি ফোন এসেছিল, কিন্তু, কোনও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়নি। কেন্দ্রের প্রাপকদের তালিকায় কেরলের নাম থাকলেও, তারাও জানিয়েছে কেন্দ্রের কোনও সহায়তা তারা পায়নি। তারা অ্যান্টিজেন কিট এবং পিপিই চেয়েছিল, চলতি সপ্তাহের শেষে তা আসার কথা। তেলেঙ্গানা এখনও কিছু না পেলেও আগামী সপ্তাহেই অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর, মাস্ক, সাবান, স্যানিটাইজার-এর মতো কমিউনিটি হেলথ কেয়ার কিটস, এবং পিপিই পাবে বলে আশা করছে।

বিভিন্ন দেশ থেকে আসা সরকার এবং বেসরকারি সহায়তা বরাদ্দ ও সরবরাহে দেরি করার এই অভিযোগ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি এখন মোদী সরকার। তবে মঙ্গলবার, সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরবরাহের ক্ষেত্রে কোনও বিলম্ব হয়নি। ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী কেন্দ্রের পক্ষ থেকে প্রথমে কোন রাজ্যের সবচেয়ে বেশি সহায়তা দরকার তা সনাক্ত করে। সেই অগ্রাধিকার নির্ধারণ করার পর, চিকিৎসা সংক্রান্ত পণ্যগুলি বিতরণ করা হয়। ২-৩দিন আগে থেকে সেগুলি যাওয়া শুরু করেছে। এই নিয়ে অযথা বিতর্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। এটা বিদেশি দাতাদের কাছে খারাপ সংকেত দেবে।