বিজ্ঞান দারুণ মজার জিনিস। কোনও ধরাবাঁধা গতি থাকে না বলে, অনেক সময়ই দেখা যায়, একটা ভুল থেকে আবিষ্কার হয়ে অযাচিত যায় অন্য কোনও দারুণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। করোনাভাইরাস টিকার ক্ষেত্রেও যদি এমনটা হয়, যদি উত্তর প্রদেশে ঘটে যাওয়া একটা ভুলই সবথেকে ঠিক বলে প্রমাণিত হয়, তবে কিন্তু, করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে ভারতের অসম যুদ্ধের মোড় ঘুরে যেতে পারে। বদলে যেতে পারে মহামারির গতিপ্রকৃতি।

ভুলটা কী? বুধবারই জানা গিয়েছিল, চলতি মাসের শুরুতে, উত্তরপ্রদেশের সিদ্ধার্থনগর জেলার নেপাল-সীমান্তবর্তী একটি গ্রামের অন্তত ২০ জন বাসিন্দাকে, ভুল করে প্রথম ডোজ কোভিশিল্ড এবং দ্বিতীয় কোভাক্সিন দেওয়া হয়েছে। যা নিয়ে গ্রামবাসীরা রীতিমতো আতঙ্কিত। কিন্তু, এই ভুলটাই যদি সঠিক বলে প্রমাণিত হয়, অর্থাৎ দুটি টিকার মিশ্র ডোজ যদি কোভিডের বিরুদ্ধে কার্যকর এবং নিরাপদ বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে ভারতের চিকা সমস্যার অনেকটাই সমাধান হতে পারে। কোভ্য়াক্সিন না কোভিশিল্ড, কোন টিকার সরবরাহ কত, সেই ভাবনাটাই থাকে না। যে কোনও টিকার একটি ডোজ দিলেই হবে।

বৃহস্পতিবার, এই বিষয়য়ে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় কোভিড-১৯ উপদেষ্টা তথা নীতি আয়োগের সদস্য ডা. ভি কে পল বলেছেন, একই ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ নেওয়াই ভালো, তবে কেউ যদি মিশ্র ডোজ পেয়ে থাকেন, তাহলেও কোনও উদ্বেগের কারণ নেই। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, কোভিশিল্ড এবং কোভ্যাক্সিন - দুটি টিকার মিশ্র ডোজ নিরাপদ। তিনি আরও জানিয়েছেন, এমনকী পরীক্ষামূলকভাবে দুটি ভিন্ন ভ্যাকসিনের মিশ্র ডোজ দেওয়ার চিন্তাভাবনাও চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, দুটি ভিন্ন করোনা টিকার ডোজ মিশ্রিত করলে কী হয়, তাই নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে গবেষণা চলছে। এটি সফল হলে, নিম্ন এবং মধ্য আয়ের দেশগুলির টিকা সংগ্রহ অনেক সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সম্প্রতি দ্য ল্যান্সেট মেডিকেল জার্নালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক দাবি করেছেন, অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড এবং ফাইজারের করোনা ভ্যাকসিনে অল্প সময়ের জন্য কড়া পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে, কিন্তু তা একেবারে নিরাপদ। দুই ভ্যাকসিনের ডোজ মিশিয়ে দিলে অনাক্রম্যতা বৃদ্ধি পায় কিনা, সেই তথ্য এখনও হাতে আসেনি তাঁদের। মডার্না এবং নোভাভ্যাক্স সংস্থার টিকার মিশ্র ডোজ, এবং আরও অন্যান্য ভ্যাকসিনের মিশ্র ডোজ নিয়েও তাঁদের কাজ করার কথা রয়েছে।