দুদিন হয়ে গেল দেশব্যাপী কডাউন জারি করা হয়েছে। কিন্তু, তারপরেও বহু মানুষই এখনও সচেতন নন। কিছু কিছু মানুষ যেমন প্রয়োজনের তাগিদে রাস্তায় নামছেন, তাদের পাশাপাশি এখনও একদন মানুষ অবস্থার গুরুত্বকে পাত্তা দিতে চাইছেন না। এভাবে দিনের পর দিন লকডাউন বিধি না মানলে রাজ্যে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সাফ জানিয়ে দিলেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ার। বৃহস্পতিবার তিনি বলেছেন, মানুষের জমায়েত বন্ধ করতে প্রয়োজনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতেও দ্বিধা করা হবে না।

বৃহস্পতিবার তিনি জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে লকডাউন সফল করতে মার্কিন সেনাবাহিনীর সহায়তা নিয়েছে। ভারতে লকডাউন সফল করার দায়িত্ব নাগরিকদেরই দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাঁরা সেই দায়িত্ব পালন করছেন না। এই অবস্থায় মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী নাগরিকদের সাবধান করে বলেছেন তাঁদের যেন আমেরিকার মতো করতে বাধ্য হতে না হয়, সেটা জনগণকেই দেখতে হবে।

বৃহস্পতিবারও মহারাষ্ট্রে বিভিন্ন জায়গা থেকেই লকডাউনকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলার খবর এসেছে। কোথাও মানুষ লোকেরা দুধের ভ্যানে হামলা চালিয়েছেন। পালঘরের ভাসাই-এ না থেমে দ্রুত চালিয়ে পালাতে গিয়ে সরাসরি এক পুলিশ কর্মীকে ধাক্কা মেরেছেন এক মোটরসাইকেল আরোহী। গুরুতর আহত হয়েছেন ওই পুলিশ কর্মী। বিদ জেলায় পুলিশ সদস্যদের উপর হামলা হয়েছে। মালেগাঁও-এর এক হাসপাতালে আবার চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছে অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন-এর কর্মীরা।

এরপরই এই বিষয় নিয়ে মন্ত্রীসভার অন্যান্য সদস্য এবং রাজ্যের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন। কার্ফু ও লকডাউনের সময় বিপুল সংখ্যক লোক কীভাবে বাড়ি থেকে বেরিয়ে স্বচ্ছন্দে ঘোরাফেরা করছেন এবং চিকিৎসক প্যারামেডিকাল কর্মী এবং পুলিশ কীভাবে জায়গায় জায়গায় আক্রান্ত হচ্ছে সেই বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। তারপরই উপমুখ্যমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস-বিরোধী পদক্ষেপ সফল করতে যাঁরা নিযুক্ত তাঁদের উপর কোনও আক্রমণ বা তাঁদের বাধা দেওয়া সহ্য করা হবে না। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কাজেই সেনা নামানোর ইঙ্গিতে মন্ত্রিসভায় সায় আছে এটা ধরে নেওয়াই যায়।  

তবে একইসঙ্গে তিনি সাধারণ মানুষকে প্রতিদিনের দুধ, ফলমূল, শাকসবজি, ওষুধ, খাদ্যশস্য, জ্বালানি এবং অন্যান্য সমস্ত প্রয়োজনীয় পণ্য়ের পর্যাপ্ত রসদ রয়েছে বলে আশ্বস্তও করেছেন। কিন্তু বাজারে যেভাবে জনসমাগম ঘটছে তা গুরুতর উদ্বেগের বিষয় বলে জানিয়েছেন অজিত পওয়ার। মানুষকে বাইরে যেতে বাধা দিতে তাদের বাড়ি বা সোসাইটির গেটে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরসঙ্গে তিনি সামাজিক সংস্থা, এনজিও এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলিকে আহ্বান জানিয়েছেন, বয়জ্যেষ্ঠ, শিক্ষার্থী, বস্তিবাসী এবং গৃহহীন দরিদ্রদের যত্ন নেওয়ার জন্য।