প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ডাকা বৈঠক নিয়ে ফের কেন্দ্র রাজ্য চাপান উতোর শুরু। বহুদিন পরে বৈঠকে যোগ দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তাঁকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। মমতার এই অভিযোগকে সামনে রেখে এবার আক্রমণ শানালেন একসময়ের মমতা ঘনিষ্ঠ শুভেন্দু অধিকারী।

 

এদিন মোদীর বৈঠক নিয়ে মমতাকে তীব্র কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। তিনি বলেন স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গীতেই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছেন মমতা। কেন্দ্র রাজ্য সুসম্পর্কের ওপর কোনও বিশ্বাস রাখেন না তিনি। তাঁর এই ধরণের কাজ গণতান্ত্রিক কাঠামোতে আঘাত হানে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী করোনা মোকাবিলায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু।

 

শুভেন্দু বলেন প্রধানমন্ত্রীর যতই চেষ্টা করছেন সমস্যা সমাধানের, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই পথে না গিয়ে রাজনীতি করতেই ব্যস্ত। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে অ-বিজেপি রাজ্য যেমন, ছত্তিশগড়, কেরালা, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান ও অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীরা বলার সুযোগ পেয়েছেন। তাঁরা তাঁদের কথা তুলে ধরেছেন। কিন্তু একমাত্র মমতার দাবি তিনি কথা বলার সুযোগ পাননি। আসলে রাজনীতি করা ছাড়া ও বিরোধিতা করা ছাড়া বিশেষ কিছু জানেন না তিনি। 

এদিন শুভেন্দু একাধিক ট্যুইট করে তৃণমূল সুপ্রিমোকে বাক্যবাণে বিদ্ধ করেন। শুভেন্দুর দাবি রাজ্যে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ। সেদিকে নজর নেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের। তিনি করোনা নিয়ে সস্তার রাজনীতি করছেন। মমতাকে শুভেন্দুর পরামর্শ করোনা নিয়ে রাজনীতি না করে বাংলার সাধারণ মানুষের দিকে তাকান। তাঁদের জন্য কাজ করুন। 

এদিনের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন দেশের করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের জেলা শাসকদের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে হবে। এটি তাঁদের কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এর আগেও দিন কয়েক আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জেলা শাসকদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। সেখানেই তিনি জেলা শাসকদের ফিল্ড কমান্ডার বলে উল্লেখ করেছিলেন।

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার কোভিড-১৯ পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য সমস্ত জেলা শাসকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। সেই বৈঠকে রীতি ভেঙে অংশ নেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রীও।