সপ্তাহখানেক আগেই 'জনতা কার্ফু'র বিকেলে ভারতবাসী, বাড়ির মধ্যে বন্দি থেকে বিকেলে থালা, কাঁসর, ঢাক, ঢোল বাজিয়ে, করতালি দিয়ে সেলাম জানিয়েছিল করোনাভাইরাস-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একেবারে যুদ্ধক্ষেত্রে যাঁরা আছেন তাঁদের। অর্থাৎ, ডাক্তার, চিকিৎসাকর্মী, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ প্রমুখ জরুরী পরিষেবায় যুক্ত ব্যক্তিদের। কিন্তু সেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ যে শুধুই হুজুগ তা দিন দিন প্রমাণ করে দিচ্ছেন ভারতীয়রাই। করোনাভাইরাস-এর চিকিৎসা করার জন্য রীতিমতো 'অপরাধী' হতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। ওড়িশার এক মহিলা চিকিৎসককে তো এবার ধর্ষণের হুমকি-ও পেতে হল।

ভুবনেশ্বরের অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (এআইএমএস)-এ জুনিয়র ডাক্তার হিসাবে কাজ করেন ওই মহিলা ডাক্তার। থাকেন খণ্ডগিরি এলাকার এক আবাসনে। দীর্ঘদিন ধরে সেখানেই থাকেন তিনি।  তিনি করোনাভাইরাস রোগীদের চিকিৎসার সঙ্গে জড়িত নন, তবু সন্দেহের বশেই এখন তিনি মাথার উপর ছাদ হারাতে বসেছেন। ইজ্জত লুন্ঠনের হুমকিও রয়েছে।

ওই ডাক্তারের অভিযোগ তিনি য়ে আবাসনে থাকেন, সেখানকার বাসিন্দারা ভয় পাচ্ছেন, তাঁর থেকে আবাসনের অন্যান্য বাড়িতে এই সংক্রামক রোগ ছড়াবে। আর তাই ওই আবাসনের ফ্ল্যাট ফাঁকা করে দিয়ে চলে যেতে বলা হয়েছে তাঁকে। গত সপ্তাহ থেকেই আবাসনের এক কর্তাব্যক্তি ও তাঁর পরিবার ওই মহিলা ডাক্তারকে নিয়মিত হেনস্থা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু ঘটনা চরমে পৌঁছায় গত রবিবার।

ওই মহিলা জানিয়েছেন, ওই দিন স্ত্রী এবং দুই ছেলেকে সঙ্গে নিয়েই তাঁর ফ্ল্যাটে চড়াও হন আবাসনের পরিচালন পর্যদের সেই কর্তা। তাঁকে নানাভাবে লাঞ্ছনা করা হয়। তাতেও কাজ না হওয়ার শেষমেষ আবাসনের ওই কর্তা তাঁকে হুমকি দেন, তিনি যদি ফ্ল্যাটটি শীঘ্রই খালি না করেন তবে তাঁকে ধর্ষণ করা হবে। এরপরই আর সময় নষ্ট না করে পুলিশের দ্বারস্থ হন ওই মহিলা ডাক্তার। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে ওই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পুলিশ ফৌজদারি ধারায় মামলা করেছে।

এদিকে ওই মহহিলা ডাক্তার, পুলিশে অভিযোগ দায়ের করার পরপরই ওই আবাসন সোসাইটি ওই মহিলা ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করেছে। তাদের দাবি, মহিলার পরিবার আবাসনের ওই অভিযুক্ত কর্তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে।

বস্তুত, ভারতের বিভিন্ন জায়গা থেকেই, ডাক্তার, চিকিৎসাকর্মী, এমনকী বিমানকর্মীদেরও শুধুমাত্র করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়াতে পারেন এই আশঙ্কায় হেনস্থা করা হচ্ছে। ওই তালা বাজানোর হুজুগটুকু ছাড়া কৃতজ্ঞতার কোনও ছবি দেখা যাচ্ছে না।