পরিচয় পত্র পরে দেখলেও চলবে, আগে পরিয়ায়ী শ্রমিকদের মুখে তুলে দিতে হবে খাদ্য। কড়া নির্দেশিকা সুপ্রিম কোর্টের। দেশের শীর্ষ আদালত শুক্রবার জানিয়ে দিয়েছে, পরিযায়ী শ্রমিকদের যাতে অনাহারে থাকতে না হয় তা নিশ্চিত করবে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলি। দিল্লি, উত্তর প্রদেশ ও হরিয়ানায় এজন্য তৈরি করতে হবে কমিউনিটি কিচেন। 

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ করোনার দ্বিতীয় তরঙ্গে আতঙ্কে বাড়ি ফিরছেন বহু পরিযায়ী শ্রমিক। তাদের অনাহারে রাখা চলবে না। তাই রাজ্যগুলিকে প্রস্তুত হতে হবে। তৈরি করতে হবে কমিউনিটি কিচেন। তাদের হাতে তুলে দিতে হবে খাবার, রেশন। এজন্য কোনও রাজ্য পরিচয়পত্র চাইতে পারবে না। শুকনো খাবার দিতে হবে তাঁদের, যাতে গন্তব্যে পৌঁছতে গেলে খাবারের অভাবে না ভুগতে হয় তাঁদের। 

শীর্ষ আদালত জানিয়েছে করোনা বিধি মেনেই খাবার দিতে হবে পরিযায়ী শ্রমিকদের। আত্মনির্ভর ভারত প্রকল্পের আওতায় দিল্লি, উত্তর প্রদেশ ও হরিয়ানা সরকারকে খাবার যোগান দিতে হবে। প্রয়োজনে কেন্দ্রের থেকে সাহায্য নিতে পারে এই রাজ্যগুলি। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অশোক ভূষণ ও বিচারপতি এম আর শাহের ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দিয়েছে। 

পাশাপাশি, সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরাতে বড় ভূমিকা নিতে পারে রেল। তাই রেল মন্ত্রককে নির্দেশ যাতে এই শ্রমিকদের জন্য বিশেষ কোনও পদক্ষেপ করা যায়, তার ব্যবস্থা করা হোক। 

শুক্রবার ভারতের মোট করোনাভাইরাস সংক্রমণের পরিমাণ ২ কোটি ৪০ লক্ষ ছাপিয়ে গেল। এদিন সকালে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রক জানিয়েছে বৃহস্পকিবার গোটা দেশে  ৩,৪৩,১৪৪ টি নতুন কোভিড-১৯ সংক্রমণের ঘটনা নথিবদ্ধ করা হয়েছে। আর গত ২৪ ঘন্টায় কোভিড জনিত কারণে প্রাণহানি ঘটেছে ৪০০০ জনের। ফলে ভারতে কোভিডে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ২,৬২,৩১৭-এ। 

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের ড্যাশবোর্ড অনুসারে দেশের মোট করোনা সংক্রমণের সংখ্যা এখন ২,৪০,৪৬,৮০৯। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের প্রকাশিত করোনা বুলেটিন অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকালের তুলনায় এদিন আরো একটু কমেছে চিকিৎসাধীন রোগীর চাপ। ভারতে এই মুহূর্তে করোনার সঙ্গে লড়াই করছেন ৩৭,০৪,৮৯৩ জন, যা দেশের মোট কোভিড-১৯ সংক্রমণের ১৫.৬৫ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩,৪৪,৭৭৬ জন। সব মিলিয়ে ভারতে এখনও অবধি করোনামুক্ত হয়েছেন, মোট ২,০০,৭৯,৫৯৯ জন। এরফলে, দেশের বর্তমান সুস্থতার হার দাঁড়িয়েছে ৮৩.২%।