করোনাভাইরাস সংক্রমণ চরম আকার ধারণ করেছে গোটা বিশ্বে। অনেকটা হলিউডি সিনেমায় যেরকম সভ্যতা শেষের চলচ্চিত্র তৈরি হয়, তেমনি ছবি ধরা পড়ছে বাস্তব জগতে। এই ধরণের ফিল্মে একটা অত্যন্ত জনপ্রিয় ধারা হল জম্বি ফিল্ম। জম্বি অর্থাৎ মৃত্যুর পরও বোধহীন লাশ হয়ে ঘুরে বেড়ানো মানুষ। তাদের একটাই অনুভূতি কাজ করে, খিদে। আর তার জন্যই সামনে মানুষ পড়লে তাদেরকেই কাঁচা খেয়ে নেয়। করোনাতঙ্কের মধ্যে শনিবার তামিলনাড়ুতে দেখা দিল জম্বি আতঙ্ক।

তামিলনাড়ুর থেনি জেলায় শুক্রবার এক অদ্ভূত ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে ভারতে করোনাভাাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে বিদেশ ফেরত যে কোনও ব্যক্তিকেই ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কা থেকে তামিলনাড়ুর থেনি জেলার গ্রামের বাড়িতে ফিরে এসেছিলেন এক যুবক। নিয়ম মেনে তাঁকেও বাড়িতেই সেল্ফ কোয়ারেন্টাইন বা স্ব-বিচ্ছিন্নতায় রাখা হয়েছিল।  

গত কয়েকদিন তিনি নিশ্চিন্তে বাড়ির মধ্যে থাকলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে তিনি আচমকাই দৌড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। পাগলের মতো গ্রামের মধ্যে দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দেন। সেই সময় তাঁর গায়ে কোনও কাপড় ছিল না। সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় দৌড়াতে দৌড়াতে হঠাৎ সামনে গ্রামের এক ৮০ বছর বয়সী মহিলা পড়ায়, তাঁকে কামড়ে দেন ওই যুবক। ওই বৃদ্ধার ঘাড়ে কামড়ে একেবারে রক্তারক্তি কাণ্ড বাধিয়ে দেন তিনি।

সেই সময় সে এমনি খেপাটে মেজাজে ছিল যে কাছাকাছি যেতেই কেউ সাহস পাচ্ছিলেন না। একটু পরে অবশ্য গ্রামের বেশ কয়েকজন মিলে তাকে বাগে আনে। খবর দেওয়া হয় পুলিশে। আপাতত তাকে পুলিশের হাতেই তুলে দেওয়া হয়েছে। সে পুলিশ হেফাজতেই আছে।

এই ঘটনার পরে শুক্রবার গভীর রাতে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই বৃদ্ধা মহিলাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবারস সকালেই ডাক্তাররা জানিয়ে দিয়েছিলেন অষ্টাদশী চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন না। এদিন দুপুরের মধ্যেই মৃত্যু হয় তাঁর।

ওই যুবকের নিজের বা পরিবারের মানসিক রোগের  কোনও ইতিহাস নেই। এর আগে তাকে নিয়ে গ্রামে কোনও সমস্য়াও হয়নি। সে কেন এমন করল তা ভেবেই পাচ্ছেন না গ্রামের মানুষ। ভাইরাস সংক্রমণ থেকে কোনওভাবে মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটছে কিনা সেই নিয়েই চলছে জোর আলোচনা। ওই গ্রামের ঘটনা নিয়ে এখন থেনি জেলার বেশ কয়েকটি গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।