রাজ্যে রাজ্যে করোনার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে কালো ছত্রাক সংক্রমণ বা মিউকরমাইকোসিস। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, কোভিড -১৯ রোগীদের ইমিউনিটি বা অনাক্রম্যতা কম থাকে বলেই এই রোগ ছড়াচ্ছে। এর মধ্য়ে ভারতে 'হোয়াইট ফাঙ্গাস' বা সাদা ছত্রাক নামে আরও একটি ছত্রাকঘটিত সংক্রমণের খবর আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

সাদা ছত্রাক সংক্রমণের প্রথম খবর এসেছে বিহারের পাটনা থেকে। পাটনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ৪ জন রোগীর দেহে সাদা ছত্রাক সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। এরপর, এদিন উত্তরপ্রদেশেকেও সাদা ছত্রাক ,সংক্রমণের একটি ঘটনার কথা জানা গিয়েছে। তাহলে কী কালো ছত্রাক সংক্রমণের পর সাদা ছত্রাক সংক্রমণও হয়ে উঠবে মাথা ব্যথার কারণ?

চিকিৎসা এবং সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞরা কিন্তু তা বলছেন না। 'ইন্ডিয়া টুডে'তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে  সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ঈশ্বর গিলাদা-কে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, সাদা ছত্রাক সংক্রমণ একটা মিথ, একটা ভুল ধারণা। এই রোগ অতি সাধারণ, চিকিৎসা পরিভাষায় একে বলা হয় 'ক্যানডিডিয়াসিস', কারণ 'ক্যান্ডিডা' নামক এক ধরণের ছত্রাকের থেকে এই রোগ হয়। তবে এটি সবচেয়ে সাধারণ ছত্রাকঘটিত সংক্রমণ।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেছেন, কালো ছত্রাকের থেকে সাদা ছত্রাক 'আরও বিপজ্জনক' এমন মোটেই বলা যায় না। কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। পালমোনোলজিস্ট ডাক্তার কপিল সাল্জিয়া ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন কালো ছত্রাক সংক্রামিত রোগীর চিকিত্সা করেছেন। ইন্ডিয়া টুডের কাছে তিনি বলেছেন, মিউকরমাইকোসিস, সাদা ছত্রাক সংক্রমণের থেকে অনেক বেশি ক্ষতিকারক। কাল ছত্রাক, সাইনাস, চোখ, মস্তিষ্কের মতো অঙ্গের ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে এবং এর জন্য গুরুতর শল্যচিকিৎসার প্রয়োজন হয়। এমনকী, কালো ছত্রাক সংক্রমণ নির্ণয় করাটাও সাদা ছত্রাকের থেকে বেশি কঠিনয কারণ, সাদা ছত্রাক প্রায়শই মানবদেহে দেখা গেলেও, কালো ছত্রাক সাধারণত মানবদেহে পাওয়া যায় না। ক্যানডিয়াডিসিস বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতিও নয়।