উত্তর প্রদেশ এবং বিহারে নদীতে ফেলে দেওয়া করোনায় মৃতদের দেহ নদীপথে ভেসে আসছে, এমন সতর্কতার পরেই মালদহে নজরদারি সবরকম ব্যবস্থা করেছিল জেলা প্রশাসন। গঙ্গায় ভেসে আসা দেহ উদ্ধারে তৎপরতা শুরু হয়েছিল জেলা জুড়ে। তবে নদীতে জল কম থাকায় ও স্রোতের গতি কম থাকায় দেহ ভেসে আসা নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। 

তবে তার আগে থেকেই দেহ উদ্ধারের সবরকম ব্যবস্থা করে রাখে প্রশাসন। একইসঙ্গে শুরু হয় গঙ্গা নদীতে বিশেষ নজরদারির কাজ। নৌকো এবং স্পিডবোটের সাহায্যে গঙ্গায় নজরদারি শুরু করে পুলিশের বিশেষ দল। একইসঙ্গে গঙ্গায় জেলে মাঝিদেরও সতর্ক করা হয়। তবে, বর্ষার মরশুম এখনও দেরি থাকায় এই মুহূর্তে গঙ্গায় জলস্তর বেশ কম। একইসঙ্গে গঙ্গার জলের স্রোতও বেশি নয়। 

এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘ কয়েকশো কিলোমিটার নদী পথ পেরিয়ে কখন বা কবে ওই দেহগুলি মালদহে এসে পৌঁছাবে বা আদৌ মালদহে আসবে কিনা তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন খোদ নদীপাড়ের বাসিন্দারাই।

করোনা আক্রান্তদের মৃতদেহ নদীপথে ঝাড়খন্ডে মালদহের মানিকচকে গঙ্গায় ভেসে আসতে পারে বলে সতর্ক করেছিল নবান্ন। এই মর্মে সতর্ক করা হয় মালদহ প্রশাসনকে। এরপরেই গঙ্গায় নজরদারির সবরকম ব্যবস্থা করে রাখে মালদহ প্রশাসন। 

নজরদারির পাশাপাশি দেহ উদ্ধারের বন্দোবস্ত থেকে শুরু করে কোনও মৃতদেহ মিললে কোথায় কিভাবে কাজ করা হবে, তারও পরিকল্পনা তৈরি করে ফেলে প্রশাসন। দেহ উদ্ধারের জন্য পিপিই কিট, শেষ কাজের জন্য হরিজনদের দল , গদাই চর এলাকায় নির্জন জমি থেকে মাটি খোঁড়ার জন্য শ্রমিকদের দল প্রস্তুত বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। 

বৃহস্পতিবার বেলার দিকে মালদহের মানিকচকের গঙ্গার ঘাট ঘুরে দেখেন জেলা পুলিশ কর্তারা। সমস্ত বন্দোবস্ত খতিয়ে দেখে পর্যালোচনা বৈঠক করেন ব্লক প্রশাসনের কর্তারা। 
তবে যার জন্য এত আগাম ব্যবস্থা সেই মৃতদেহগুলি মালদহ পর্যন্ত আশা নিয়েই সংশয় তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই বিহার ও ঝাড়খন্ড প্রশাসনও নদীতে ভেসে আসা দেহগুলি নিয়ে তৎপরতা বাড়িয়েছে। ফলে দেহ ভেসে আসবে কিনা, তা নিয়ে কেউই নিশ্চিত নয়। 

তবে নবান্নের সতর্কবার্তার পর ব্যবস্থাপনায় কোনরকম ফাঁকফোকর রাখতে চাইছে না প্রশাসন। এদিন মালদহের জেলাশাসকের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন জেলার মন্ত্রী রাজ্যের সেচ ও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, বিহার ও উত্তরপ্রদেশে করোনা আক্রান্তদের দেহ যেভাবে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে তা অত্যন্ত অমর্যাদাকর। রাজ্য সরকার এক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য প্রস্তুত। নদীতে মৃতদেহ ভেসে এলে মালদা সীমান্তে সেগুলিকে উদ্ধার করে যাবতীয় কোভিড বিধি মেনে শেষ কাজ করা হবে।