বিধাননগরের একটি বেসরকারি হাসপাতাল। মঙ্গলবার, সেখানকার কোভিড ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন মাত্র ১ জন। এদিন সকাল ১০ টার মধ্যেই সেই ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন আরও ৮ জন! সেইসঙ্গে সমানে ফোন আসছে, 'কোভিড ওয়ার্ডে বেড খালি আছে?' এটা শুধু একটা হাসপাতাল নয়, বঙ্গের জেলায় জেলায় ভোটের মুখে ফের বাড়ছে করোনার দাপট। আর চিকিৎসকরা বলছেন, এবার যেন সংক্রমণ গত বছরের থেকেও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর, রোগীদের বেশিরভাগই ৪০-এর আশপাশের বয়সী।

এক সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের ১৯টি জেলায় কোভিড-১৯ পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর। সংক্রমণের ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতিবাচক হওয়ার হার গত ১৫ মার্চ থেকে ২১মার্চের মধ্যে ১.৩৫ শতাংশ থেকে  বেড়ে ১.৭৮ শতাংশ হয়ে গিয়েছে। সূত্রের দাবি, ১৯টি জেলাকে লাল অর্থাৎ বিপজ্জনক হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আর কলকাতার সংক্রমণের হার ২.০৯ শতাংশ থেকে এখন ৩.০৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

মঙ্গলবার রাজ্যে ৪০৪টি নতুন সংক্রমণের ঘটনা ধরা পড়েছে। ফলে এখন বাংলায় মোট কোভিড সংক্রামিতের সংখ্যা ৫,৮১,৪০৩-এ দাঁড়িয়েছে। আর করোনা জনিত কারণে প্রাণহানির ঘটেছে ২ জনের। ফলে এখনও পর্যন্ত বাংলায় কোভিডে মৃত্যু হয়েছে ১০,৩১০ জনের। এর মধ্যে চিকিৎসাধীন ৩,৬৫৬ জন।

তবে, পশ্চিমবঙ্গে করোনার এই উত্থান একেবারেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গোটা দেশেই সংক্রমণ ও করোনাজনিত কারণে মৃত্যু - দুইই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। বস্তুত, এদিন স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘন্টায় ভারতে চলতি বছরে কোভিডে সর্বোচ্চ মৃত্যুরর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার, দেশে নতুন করে কোভি আক্রান্ত হয়েছেন ৪৭,২৬২ জন, আর মৃত্যু হয়েছে ২৭৫ জনের। আর মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি ৬ রাজ্যে - মহারাষ্ট্র, পঞ্জাব, ছত্তিসগড়, কেরল, তামিলনাড়ু এবং কর্ণাটক।

ভারতে এখনও পর্যন্ত কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন মোট ১,১৭,৩৪,০৫৮ জন। এর মধ্যে চিকিৎসাধীন ৩,৬৮,৪৫৭ জন। মোট মৃত্যু হয়েছে ১,৬০,৪৪১ জনের। আর এখনও পর্যন্ত টিকা দেওয়া হয়েছে ৫,০৮,৪১,২৮৬ টি ডোজ।