ভয়াবহ সংক্রমণের মুখে আগামী ২৩ শে মে পর্যন্ত খড়্গপুর আইআইটি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। মঙ্গলবারও খড়্গপুর আইআইটিতে ২০জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার অর্থাৎ ১৪ ই মে থেকে আগামী ২৩শে মে (রবিবার) পর্যন্ত আইআইটি খড়্গপুর সম্পূর্ণ রূপে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। 

১২ই মে অর্থাৎ বুধবার সন্ধ্যায় এই বিষয়ে নির্দেশিকা জারি করেছে আইআইটি খড়্গপুর কর্তৃপক্ষ। মোট ১৮ দফা নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, জরুরি পরিষেবা ছাড়া আইআইটি খড়্গপুর সম্পূর্ণ রূপে বন্ধ। ছাত্র-ছাত্রীদের পঠনপাঠন চলবে অনলাইনে।

এই নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে

১. আইআইটি খড়্গপুর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আগামী ১৪ ই মে থেকে ২৩ শে মে পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। ক্লাস হবে অনলাইনে।

২. আইআইটি'র অধ্যাপক-অধ্যাপিকা, শিক্ষাকর্মী বা অন্যান্য সকল কর্মীরা বাড়ি থেকেই নিজেদের কাজ করবেন (Work from Home)। শুধুমাত্র জরুরি পরিষেবার সঙ্গে জড়িত কর্মীরা ক্যাম্পাসের মধ্যে নিজেদের কাজ করতে পারবেন।

৩. আইআইটি ক্যাম্পাসের ভেতরে থাকা কেউ এই সময়কালের মধ্যে বাইরে যেতে পারবেন না এবং এই সময়ের মধ্যে বাইরের কেউ (অধ্যাপক, শিক্ষাকর্মী বা শিক্ষার্থী যে কেউ) ভেতরে ঢুকতে পারবেননা (এমার্জেন্সি বা জরুরি কোনো কারণ ছাড়া)। 

৪. আইআইটি খড়্গপুর ক্যাম্পাসের মধ্যে থাকা বাজার বা দোকানপাট সকাল ৭ টা থেকে ১০ টা এবং বিকাল ৫ টা থেকে ৭ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

৫. কোভিড বিধি মেনে ভেতরের দোকানপাট খুলতে হবে এবং কেনাকাটা করতে হবে।

৬. আইআইটি ক্যাম্পাসের মধ্যে থাকা সেলুন, বিউটি পার্লার, জিমনেশিয়াম, সুইমিং পুল, রেস্টুরেন্ট প্রভৃতি বন্ধ থাকবে।

৭. জরুরি কারণ ছাড়া কোনোভাবেই ক্যাম্পাসের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হবেনা এবং বাইরেও বেরোনো যাবেনা। 

৮. সমস্ত ধরনের জমায়েত, সামাজিক-রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এই সময়কালের মধ্যে আয়োজন করা যাবেনা। 

৯. ক্যাম্পাসের মধ্যে আবর্জনা ফেলা, থুতু ফেলা, সিগারেট খাওয়া প্রভৃতি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ

আইআইটি খড়্গপুর কর্তৃপক্ষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং কঠোরভাবে কোভিড বিধি মেনে চলার নিদান দিয়েছে। 

স্বাভাবিকভাবেই, এই সিদ্ধান্তের ফলে, বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাস ছাড়ার হিড়িক পড়েছে। মাঝখানে শুধু বৃহস্পতিবার দিনটুক দেওয়া হয়েছে সিদ্ধান্ত বলবৎ করার জন্য। নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কোভিড চেইন ভাঙতে বা সংক্রমণ  প্রতিরোধ করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

আগামী ২৩ শে মে পর্যন্ত উপরোক্ত সমস্ত নিয়মাবলী কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকেই। পরিস্থিতি দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।