করোনা সংক্রামিত ব্যক্তি ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে অনন্য নজির গড়লো বালুরঘাটের এক কলেজ পড়ুয়া। অ্যাম্বুলেন্স থেকে শুরু করে অক্সিজেন সহ যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এক জায়গায় দিতে আস্ত ওয়েবসাইট তৈরি করে ফেলেছেন চকভবনী এলাকার বাসিন্দা ঈপ্সিতা ভৌমিক। কোথায় অক্সিজেন পাওয়া যাবে, কোথায় একটু সহযোগিতা পাওয়া যায়, কোথায় বিনামূল্যে খাবার পাওয়া যাচ্ছে, আবার কোথায় বা স্বেচ্ছাসেবীরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। এই সব তথ্য সকলের কাছে হয়তো জানা নেই। অনেকেই বাড়ির সকলে করোনা আক্রান্ত হওয়ার ফলে নানা রকম সমস্যায় পড়ছেন। ওষুধপত্র থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী আনার লোক নেই। এই সব সমস্যা দূর করতে এবং সাধারণ মানুষের নাগালে সব তথ্য তুলে ধরতে এই ওয়েবসাইট তৈরি করেছেন ঈপ্সিতা।

আরও পড়ুন, হাসপাতালে যেতে রাজি নন বুদ্ধদেব, শরীরে কমছে অক্সিজেনের মাত্রা 

 

 

প্রসঙ্গত, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ থাবা বসিয়েছে জেলায়। দিন দিন লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর গ্রাফও ক্রমশ উর্ধমুখী। করোনা চিকিৎসায় সাধারণ মানুষ দিকবিদিক জ্ঞানশুন্য হয়ে পড়েছেন। অ্যাম্বুলেন্স থেকে শুরু করে অক্সিজেন বা বাড়িতে খাবার ও ঔষধ পৌঁছে দেওয়া যোগাযোগ নম্বর পেতে মানুষ অসহায় বোধ করছেন। সংক্রামিতদের চিকিৎসা করাতে একরকম হিমশিম খাচ্ছেন রোগীর পরিজনরা। গত ২ মে থেকে ঈপ্সিতা এই ওয়েবসাইট তৈরি করার কাজ শুরু করে। দিন পাঁচেকের মধ্যেই ওয়েবসাইট তৈরির কাজ প্রায় শেষ হয়ে যায়। প্রত্যেকদিন যেখান থেকে যেমন তথ্য পাচ্ছেন সেই তথ্য ওয়েবসাইটে আপলোড করছেন। ওয়েবসাইটে মূলত কোথায় কি পরিষেবা পাওয়া যাচ্ছে তার উল্লেখ রয়েছে। এছাড়াও তাদের সঙ্গে যোগাযোগের নম্বর এই ওয়েবসাইটে তুলে ধরেছেন ঈপ্সিতা। জেলা থেকে রাজ্যে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এধরনের প্রচেষ্টা এই প্রথম বলেই দাবি। ঈপ্সিতার তৈরি ওয়েবসাইটে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার পাশাপাশি রাজ্যের অন্যান্য জেলার বিভিন্ন তথ্য রয়েছে। যেখানে সাধারন মানুষ যে কেউ চাইলেই এক ক্লিকে বিভিন্ন ধরনের তথ্য সহজেই পেতে পারেন। করোনা চিকিৎসায় মুশকিল আসান করতেই এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন ওই কলেজ পড়ুয়া।

আরও পড়ুন, কোভিডে রাজ্যে একদিনে মৃত ১৫৭ , বাড়িতে বসেই করোনা পরীক্ষার ছাড়পত্র দিল ICMR  

 

 

অন্যদিকে, মানুষের পাশে থাকার এই অভিনব চিন্তাধারাকে সম্পূর্ণভাবে সমর্থন করেছে তার পরিবার। যেদিন থেকে তার মনের কথা জানতে পেরেছেন সেই সময় থেকেই তাকে সব রকমভাবে সাহায্য করেছেন তার বাবা ও মা। ঈপ্সিতা ছোট থেকেই মেধাবী ছাত্রী। বর্তমানে তিনি দিল্লির একটি কলেজে ইংরেজি স্নাতকের তৃতীয় বর্ষে পড়ছেন। এদিকে করোনার জেরে ও লোকডাউনের কারনে এখন তিনি বাড়িতেই রয়েছেন। করোনার সময় থেকেই তার চিন্তা ভাবনা ছিল কি করে সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া যায়। সেই চিন্তা থেকেই এই ওয়েবসাইটে তৈরি ভাবনা মাথায় আসে ও তার সেই সিদ্ধান্তকে বাস্তব রূপ দিতে উঠে পড়ে লাগান তিনি।বর্তমানে এই ওয়েবসাইটে জেলার প্রায় সবরকম তথ্য রয়েছে বলে ঈপ্সিতা জানিয়েছেন। তার বন্ধুরাও এই কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। ইপ্সিতার বাবা প্রলয় ভৌমিক অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক। অন্যদিকে, ইপ্সিতার মা সীমা ভৌমিক পেশায় স্বাস্থ্যকর্মী। 

আরও পড়ুন, Live Covid-আজ কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে মোদী-মমতা, বাড়িতে বসেই করোনা পরীক্ষার ছাড়পত্র দিল ICMR 

 

 

এই বিষয়ে ওয়েবসাইট নির্মাণকারী কলেজ পড়ুয়া ঈপ্সিতা ভৌমিক জানান, 'প্রথমে ওয়েবসাইট নয়, একটি ডেটাবেজ তৈরি করেছিলাম। কিন্তু সেই ডেটাবেজ সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব ছিল না। সেই জায়গা থেকেই এই ওয়েবসাইট তৈরি করার কথা মাথায় আসে। করোনা সংক্রামিতদের প্রয়োজন পড়তে পারে এমন সব যোগাযোগ নম্বর এক ছাতার তলায় নিয়ে আসতেই এই উদ্যোগ নিয়েছি। কেউ যদি কোনো তথ্য সেখানে যুক্ত জানাতে চান। তার জন্য সেখানে সেই অপশন রয়েছে ও ফোন নম্বর দেওয়া আছে। আমাদের জেলার বিভিন্ন পুরসভা, প্রশাসনিক ভবন বা স্বাস্থ্য দপ্তর সমস্ত কিছুর যোগাযোগের নম্বর সেখানে দিয়েছি।'

আরও পড়ুন, আজ বজ্রবিদ্যুৎ সহ প্রবল বর্ষণ শহরে, বাংলা-ওড়িশায় আঘাত হানতে আসছে ঘূর্ণীঝড় 'যশ' 

 

 

এই বিষয়ে ঈপ্সিতার মা সীমা ভৌমিক জানান, 'করোনার দাপটে সাধারণ মানুষের নাজেহাল অবস্থা। আমি এক জন স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে তা চাক্ষুষ করতে পারছি। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে আমার মেয়ের এমন উদ্যোগের ফলে মা হিসেবে গর্ববোধ হচ্ছে। প্রত্যেকেই তাদের সাধ্যমতো যদি এই লড়াইয়ে সামিল হন। তাহলে পরিস্থিতি মোকাবিলা অনেক সহজ হয়ে যাবে। ঈপ্সিতার বাবা প্রলয় ভৌমিক বলেন, যেদিন মেয়ে আমাকে তার ইচ্ছার কথা জানায়। তাকে সর্বতভাবে সমর্থন ও সাহায্য করেছি। তাকে তার সাধ্যমত এগিয়ে যেতে বলেছি। তার এই প্রয়াস সফল হয়েছে। তার বানানো ওয়েবসাইট থেকে প্রচুর মানুষ সাহায্য পাচ্ছেন। এক ছাতার তলায় জেলার সমস্ত দরকারি নম্বর পেয়ে যাওয়ার ফলে অনেক মুশকিল আসান হয়েছে।'