বুদ্ধদেব পাত্র, পুরুলিয়া- গণেশ পুজোতেও করোনা ভাইরাস থিম। এবছরের পুজো সেভাবে জাঁকজমক না হলেও প্রস্তুতিতে কোনওরকম খামতি রাখেননি উদ্যোক্তারা। পুজো হল রীতি মেনেই। করোনা বিধি মেনে বজায় থাকল সামাজিক দূরত্ব। তবে এবছর মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করেননি গ্রামবাসীরা। বরাবরের মতো এবারও পুজোয় সাম্প্রদায়িক বার্তা দিলেন উদ্য়োক্তারা।

পুরুলিয়ার নিতুড়িয়া থানার পারবেলিয়া সরস্বতী ক্লাবের উদ্যোগে গণেশ পুজো অনুষ্ঠিত হয়। করোনা মহামারির কারনে এবছর পুজোর বাজেটে কাটছাঁট ককরেন গ্রামবাসীরা। পুজো উদ্য়োক্তারা জানান, মুম্বইয়ের আদলতেই প্রতিবছর গণেশ পুজো হয় এখানে। প্রতি বছর পুজো ১০ দিন ধরে চললেও, এবছর করা হয়েছে মাত্র তিন দিনের জন্য। প্যান্ডেলে গুটি কয় লোক নিয়ে নম নম করেই পুজো সম্পন্ন করেল উদ্যোক্তারা।

পুজো কমিটির সম্পাদক শশীভূষণ প্রসাদ যাদব জানান, মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সবই বন্ধ এবছরের পুজোয়। আগে গণেশ পুজোর মেলাকে ঘিরে মাঠে তিল ধরানোর জায়গা থাকত না। কিন্তু, করোনা ভাইরাসের কারনে এবছর সেই জাঁকজমক নেই। তবে প্রতি বছরের মতো সাম্প্রদায়িক বার্তা দেওয়ার করেন তাঁরা। হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান সব জাতির সমন্বয়ে শোভাযাত্রা হয়। পুজোর জন্য় দামোদর নদ থেকে ঘটে করে জল আনা হয়েছিল। গত বছর পুজোর বাজেট ছিল ১৫ লক্ষ টাকা। এবছর তা নামিয়ে আনা হয় মাত্র ৫ লক্ষ টাকায়। 

পুজোর পাশাপাশি সামাজিক কর্মসূচিরও উদ্য়োগ নেন উদ্যোক্তারা। সরস্বতী ক্লাবের পক্ষ থেকে ২৭ জন স্বনীর্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের সাইকেল দেওয়া হয়। এছাড়াও, অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের জন্য় খাবার এবং যেসব মহিলারা শিবের আরাথধনা করেন তাঁদের সাউন্ড সিস্টেম দেওয়া হয়। করোনা আবহে সামাজিক দূরত্ব বিধি বজায় রেখে এই সামাজিক কর্মসূচি করা হয় বলে জানান পুজো কমিটির সম্পাদক শশীভূষণ প্রসাদ যাদব।