দেশের করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ। রাজ্যও তার ব্যতিক্রম নয়। অতিমারি করোনা আবহের কারনে বিশেষ সিদ্ধান্ত রাজ্যের শিক্ষা দফতরের। সোমবার এক নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফতর। নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, এবার করোনা রোগীদের শয্যার ঘাটতি মেটাতে স্কুলগুলিকে ব্যবহার করা হবে। স্কুলে স্কুলে তৈরি করা হবে সেফ হোম। 

করোনা পরিস্থিতির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ বিভিন্ন স্কুল ও কলেজ। তাই এই স্কুলগুলিকে এবার কাজে লাগাতে চায় স্কুল শিক্ষা দফতর। সেখানে তৈরি করা হবে সেফ হোম। যাতে করোনা রোগীদের শয্যার ঘাটতি কিছুটা দূর হয়। স্কুল শিক্ষা দফতরের নির্দেশ দ্রুত স্কুলগুলিকে খালি করা হয়। এরই সঙ্গে স্কুলগুলিকে স্যানিটাইজ করে সেখানে সেফ হোম গড়ে তোলা হোক। খুব দ্রুত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

পড়ুয়াদের অনলাইন ক্লাস চলছে। ২০২০ সাল থেকে লকডাউনের সুরু থেকেই বন্ধ অবস্থায় রয়েছে স্কুল। মাঝখানে চালু হলেও, ফের করোনা সংক্রমণের বাড়াবাড়ির জেরে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাই স্কুলে যদি সেফ হোম তৈরি করা হয়, তবে জায়গার অভাব হবে না বলেই মনে করছে শিক্ষা দফতর। 

করোনার দ্বিতীয় তরঙ্গের জেরে রীতিমত বেসামাল রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর ছবি। গত এক সপ্তাহে গড়ে ২১ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। শনিবার ও রবিবার প্রতিদিন ১৪৭জনেরও বেশি মানুষ গড়ে মারা গিয়েছেন করোনা আক্রান্ত হয়ে। ফলে এই সিদ্ধান্ত যে করোনা রোগী ও তাঁদের পরিবারের জন্য স্বস্তির নিঃশ্বাস নিয়ে আসবে তা বলাই বাহুল্য। 

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা নেমে এলো আড়াই লাখের কাছে। মোট আক্রান্ত হয়েছে এদিন ২,৬৩,৫৩৩ জন। তবে কিছুতেই কমছে না মৃত্যুর হার। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা প্রাণ কেড়েছে ৪৩২৯ জনের। এখনও পর্যন্ত ভারতে করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৩১,৮২,৯২,৮৮১ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮,৬৯,২২৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়, যার মধ্যে আড়াই লাখ পজিটিভ।