করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ক্রমশই বাড়ছে পাকিস্তানে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দেওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত করোনার জীবানুতে সংক্রমিত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের। আক্রান্ত হয়ে ১৬১৩ জন মানুষ ভর্তি রয়েছেন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে। করোনার সংক্রমণ সবথেকে ভয়ঙ্কর আকার নিয়েছে পঞ্জাব প্রদেশে। সেখানে আক্রান্তের ৫৯৩। সিন্ধ প্রদেশে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ৫০২ জন। বালুচিস্তানে আক্রান্ত হয়েছে ১৪১। আর ইসলামাবাদে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৩। পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে জানান হয়েছে এখনও পর্যন্ত ২৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। 

পাকিস্তান স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফ থেকে ডক্তার জাফর মির্জা জানিয়েছেন, আক্রান্তদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা সংকটজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা হলেও বেড়েছে। তবে জাফর মির্জা আরও জানিয়েছেন, পাকিস্তানে করোনাভাইরাসে আক্রান্তে এক জনেরও চিন সফরের ইতিহাস নেই। পাকিস্তান ও চিন সরকার যৌথভাবে পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও এটা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, উনান প্রদেশ থেকে পাক ছাত্রদের নিয়ে না আসার সিদ্ধান্ত কতটা যুক্তিযোগ্য ছিল তা এখনও প্রমাণ হচ্ছে। চিনের উনান ও হুবেই প্রদেশ ছিল করোনার আঁতুড়ঘর। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ সামনে আসার পরই ভারত উনান থেকে ভারতীয় শিক্ষার্থী ও নারগিকদের বিশেষ বিমানে করে দেশে নিয়ে আসে। সেই সময় নিজের দেশের ছাত্রদের বিপদের মধ্যে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল পাক সরকারের বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগের বিরুদ্ধেই সাফাই গাইলেন  জাফর মির্জা। 

আরও পড়ুনঃ করোনাভাইরাসের রুদ্র রূপ, প্রাণ গেল ট্রাম্পেরে দেশের ছোট্ট শিশুর

আরও পড়ুনঃ রাজা প্রজা কাউকেই ছাড়ছে না ভয়ঙ্কর করোনা, স্পেনে মৃত রাজপরিবারের সদস্য মারিয়া

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে পাকিস্তানও ভারতের মতই লকডাউনের পথে হেঁটেছে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে লকডাউন চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইমরান খানের প্রশাসন। তবে লকডাউন সফল করতে ইতিমধ্যেই সেনা নামিয়েছে পাকিস্তান। দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই পাক সেনাবাহিনী কাজ করবে। সাহায্য করবে স্থানীয় প্রাশসনকে, জানান হয়েছে পাক সেনাবাহিনীর তরফ থেকে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাকিস্তান সরকার ইরান, আফগানিস্তান ও ভারতীয় সীমান্ত আরও দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।