নিউ ইয়র্কের একটি চিড়িয়খানায় করোনাভাইরাসের সংক্রমিত হয়েছিল বাঘ। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই জল্পনা শুরু হয়ে যায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে কতটা নিরাপদ বাঘের মাসী বিড়াল। কারণ দেশে তো বটেই বিদেশেও অনেকেই পোষ্য বিড়ালটিতে আদর না করে দিন কাটাতে পারেন না। অনেকেই আবার একাকীত্বের সঙ্গী বাড়ি পোষ্য বিড়ালটি বা কুকুরটি। জার্নাল সায়েন্সের ওয়েবসাইটে একটি লেখা প্রকাশিত হয়েছে। যেটি নিয়ে রীতিমত প্রচার শুরু করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সেখানে অবশ্য বিজ্ঞানীরা বিড়াল থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখারই ইঙ্গিত দিয়েছেন। গবেষকদের কথায় বিড়াল  করনোভাইরাসে সংক্রমিত হতেই পারে। 

তবে বিজ্ঞানীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী কিছুটা অশ্বস্ত হতেই পারেন কুকুরপ্রেমীরা। কারণ তথ্য বলছে কুকুর,মুরগি, হাঁস আর শূকরের করোনাভাইরাস থেকে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা খুবই কম। কোন কোন পশু করোনাভাইরাসে সংক্রমণ হতে পারে তা জানতেই পরীক্ষা শুরু করেছিলেন গবেষকরা। বিজ্ঞানীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাদুড়ের থেকেই করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছিল মানুষ। তবে বিড়াল ও কুকুর থেকে যে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারে এমন কোনও দৃঢ়়  তথ্য এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। 

তবে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মূলত চোখ, মুখ আর নাক দিয়েই এই ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করে। তাই তাঁরা যখন বেশ কয়েকটা প্রাণীর মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে দিতে চেষ্টা করছিলেন তখন তাঁরা দেখেন যে বিড়াল করোনাভাইরাসের প্রতি অত্যন্ত সংবেশনশীল। পাশাপাশি তাঁরা সেই সময় লক্ষ্য করেছিলেন একটি বিড়াল বাকি বিড়ালগুলিকে সংক্রমিত করতে পারছে। বেশ কয়েরটি বিড়ালের শ্বাসকষ্টের লক্ষণ স্পষ্ট হয় বলেও জানিয়েছেন বিজ্ঞানী। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বিড়াল শাবকের ফুসফুস ও গলায় ক্ষতের চিহ্নিও পাওয়া গিয়েছিল। তাই প্রমান না পাওয়া গেলেও বিড়াল থেকে মানুষকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখারই পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

পাশাপাশি অ্যান্টিবডি পরীক্ষার মাধ্যমে দেখা গেছে কুকুরদের করনোভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম ছিল। অন্যদিকে শূকর, হাঁস ও মুরগির শরীরে করোনাভাইরাসের কোনও লক্ষণ পাওয়ায় যায়নি। 

আরও পড়ুনঃ করোনাভাইরাস দীর্ঘসময় বেঁচে থাকে ফেস মাস্ক আর প্ল্যাস্টিকে, তেমনই দাবি বিশেষজ্ঞদের

আরও পড়ুনঃ করোনা সংক্রমণ রুখতে রণনীতি বদল, দক্ষিণ কোরিয়ার পথেই কি ভারত

আরও পড়ুনঃ কত ডিগ্রি তাপমাত্রায় জব্দ হতে পারে করোনাভাইরাস, কী বলছেন চিকিৎসকরা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে বিড়াল বা কুকুর থেকে মানুষ সংক্রমিত হয়েছে এমনটা তাঁরা বিশ্বাস করেন না। মানুষের মাধ্যমেই পশুপাখিরা সংক্রমিত হতে পারে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। তাই নিরীহ প্রাণিদের হত্যা করে প্রতিশোধ চরিতার্থ না করতেই আবেদন জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।