করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে ফেস মাস্ক আর হ্যান্ড স্যানিটাইজারই এখন প্রধান ভরসা বিশ্ববাসীর। কিন্তু সংক্রমণ রুখতে কতটা কার্যকর ফেসমাস্ক? তাই নিয়েই রীতিমত গবেষণা শুরু করেছিল হংকং বিশ্ববিদ্যাল। কিন্তু তাঁদের সমীক্ষা পত্র সামনে আসার পরই উদ্বেগ আরও বাড়ছে। কী রয়েছে সেই গবেষণায় ? হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই গবেষণাপত্র থেকে জানা যাচ্ছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে ভালো করে বারবার হাত ধোয়া ছাড়া অন্য কোনও গতি নেই। 

হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা জানাচ্ছে অপারেশনের জন্য যে ফেসমাস্ক ব্যবহার হয় তার উপরিভাগে করোনার জীবানু এক সপ্তাহ পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। তাই ফেসমাস্ক ব্য়বহার করলেও তার উপরিভাগে হাত দিতে নিষেধ করছেন বিজ্ঞানীরা। কারণ কোনও ভাবে ফেস মাস্কে যদি জীবানু চলে যায় তা দীর্ঘক্ষণ পর্যন্ত জীবিত থাকে। সেখান থেকে সংক্রমণের আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না তাঁরা। আর ফেসমাস্ক ব্যবহার করলেও হাত ধুয়ে ফেলা অত্যন্ত জরুরী। 

হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই গবেষণাপত্রে রীতিমত আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। কারণ সেখানে বলা হয়েছে, টাকা, স্টেনলেস স্টিল আর প্ল্যাস্টিকে করোনার জীবানু প্রায় এক দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের মধ্যেই দিয়ে সংক্রমণের আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেনা বিজ্ঞানীরা। তাই রোগ প্রতিহত করতে বার বার হাত ধোয়া আর অ্যালকোহল যুক্ত স্যানিটাইজার ব্যবহারের ওপরই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। 

কী কী করলে করোনাভাইরাসের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে  তা জানতে গবেষণা শুরু করেছিলেন বিজ্ঞানীরা। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে সার্স-সিওভি-২ এই জীবানুটি অনুকূল পরিবেশে অত্যান্ত স্থিতিশীল। পাশাপাশি জানান হয়েছে , তামপাত্রের হেরফের তেমনভাবে সমস্যায় ফেলতে পারেনা করোনার জীবানুকে। অনেকেরই ধারনা ছিল প্রবল গরমে করোনার জীবানু মরে যায়। কিন্তু তাও উড়িয়ে দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।  

আরও পড়ুনঃ সুন্দরীর খেতাব দূরে সরিয়ে করোনার বিরুদ্ধে জেহাদ, ভারত থেকে ইংল্যন্ডে ফিরলেন ভাষা

আরও পড়ুনঃ রাজ্যগুলির লকডাউন বাড়ানোর আর্জি খতিয়ে দেখছে কেন্দ্র, জুন পর্যন্ত বন্ধ থাকতে পারে স্কুল

আরও পড়ুনঃ কত ডিগ্রি তাপমাত্রায় জব্দ হতে পারে করোনাভাইরাস, কী বলছেন চিকিৎসকরা

কাজগ, টিসু পেপারে করোনার ভাইরাস প্রায় তিন ঘণ্টা বেঁচে থাকে ও প্রবলভাবে সংক্রমণ ছড়িয়ে যেতে পারে। কাঁচে দ্বিতীয় দিনেও করোনাভাইরাসে অস্তিত্ব পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। প্ল্যাস্টিকে এই জীবানুর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে চার দিন পরেও। তামার ওপর মাত্র চার ঘণ্টা বেঁচে থাকতে পারে

এই ভাইরাস। আর কাটবোর্ডে এর স্থানীয় একদিনেরও কম সময়। 

এক বিজ্ঞানী জানিয়েছেন পরীক্ষাগারেই রীতিমত সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করা হয়েছিল। কোনও ব্যক্তির সরাসরি ভাইরাস স্পর্শ করেননি। কিন্তু নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসে করোনার জীবানু দীর্ঘক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে বলেই সংক্রমিতের সংখ্যা বাড়ছে। তাই সচেতনতা অবলম্বন করতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যান্ত জরুরী। বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়া আর নিজেকে পরিচ্ছন্ন করে রাখালেই করোনার সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে বলেই মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।