করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যেই গোটা দেশে নতুন করে বিপদ-ঘণ্টা বাজিয়েছিল। এবার নতুন করে করোনাক্লান্ত দেশে শঙ্কা বাড়াচ্ছে হলুদ ছত্রাক বা ইয়লো ফাঙ্গাস। চিকিৎসকদের মতে এজাতীয় ছত্রাক সাদা ও কালোর তুলনায় অনেক বেশি মারাত্মক। সোমবার জাতীয় রাজধানী দিল্লি সংলগ্ন গাজিয়াবাদে প্রথম হলুদ ছত্রাকে আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া গেছে। আক্রান্তের চিকিৎসা চলছে ডক্টর ব্রিজপাল ত্যাগী হাসপাতালে। 

হলুদ ছত্রাক রোগের লক্ষণঃ 
হলুদ ছত্রাকের লক্ষণগুলি হল অলসতা, ওজন হ্রাস, খিদে ও তৃষ্ণা কম থাকা, খাবারে অরুচি। হলুদ ছত্রাকে আক্রান্তদের শরীরে পুঁজ জমতে পারে। এই হলুদ ছত্রাক ক্ষত সারিয়ে তোলার প্রক্রিয়াকে গতিতে ধীর করে দেয়। অনেক সময় এটি সংক্রমণ মোকাবিলার শক্তিকেও দুর্বল করে দেয়। চোখ ও অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গের অত্যন্ত ক্ষতিসাধন করে। চিকিৎসকদের কথায় হলুদ ছত্রাক একটি মারাত্ম রোগ। কারণ একটি মানব দেহের অভ্যন্তরে দানা বাঁধতে থাকে। প্রথম দিকে কোনও বহিপ্রকাশ হয়না। কিন্তু যখন লক্ষণগুলি সামনে আসতে শুরু করে  তখন দ্রুততার সঙ্গে চিকিৎসা না করলে বড়সড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় আক্রান্তদের।

হলুদ ছত্রাকের টার্গেটঃ
হলুগ ছত্রাক মূলত দীর্ঘদিন রোগে ভোগা দুর্বলদেরই টার্গেট করে। অপরিষ্কার জায়গা ও পুরনো ও পচা খাবারের মাধ্যমে এই ছত্রাক ছড়িয়ে পড়ে। অত্যাধিক আদ্রতা ওই ব্যাকটিরিয়াকে ছড়িয়ে পড়তে রীতিমত সহযোগিতা করে। ৩০-৪০ শতাংশ আদ্রতার দ্রুততার সঙ্গে বেড়ে ওঠে হলুদ ছত্রাক। 

হলুদ ছত্রাকের চিকিৎসাঃ 
অ্যাম্ফোটোরিকিন বি ইনজেশন দেওয়া হয় আক্রান্তদের। এটি একটি অ্যান্টি ফাঙ্গাল ড্রাগ। 

রবিবারই স্বাস্ব্য মন্ত্রক জানিয়েছিল মাইক্রমাইকোসিস রোগা আক্রান্তের সংখ্যা দেশে বাড়ছে। এখনও পর্যন্ত গোটা দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ৪২৪। আক্রান্তদের মধ্যে সাড়ে ৪ হাজারেরও বেশি রোগী আগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন।   মূলত ডায়াবেটিক, দীর্ঘদিন আইসিইউতে থাকা রোগীদের মধ্যেই হলুদ ফাঙ্গাসের প্রকোপ দেখা য়ায়।