অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন ক্রিকেটার ম্যাথু হেডেন ভারতের চলমান করোনাভাইরাস সংকট নিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় একটি আবেগঘন লেখা পোস্ট করেছিলেন। যেখানে তিনি মোটের ওপর ভারত সরকারের পাশে দাঁড়িয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলিকে তুলোধনা করেছিলেন। বর্তমানে করোনাভাইরাসের মহামারি মোকাবিলা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ভারত সরকার ব্যর্থ হয়েছে, এই অভিযোগ তুলেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলি। হেডেন মূলত সেই লেখাগুলির তীব্র সমালোচনা করেন। হেডেনের মূল বক্তব্যই ছিল আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলির ভারতের বৈচিত্র ও প্রকৃত অবস্থা না বুঝেই একরম ভারত বিরুদ্ধ মন্তব্য করছে। যা তাঁকে রীতিমত হতাশ করেছে। হেডেনের কথা ১৪০ কোটির দেশ ভারত। আর সেই কারণে সেখানে যে কোনও সরকার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। 

হেডেনের বক্তব্য

ভারতের করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় তরঙ্গ মারাত্ম আকার নিয়েছে। আর সেই পরিপ্রেক্ষিতেই হেডেন বলেন,' এক দশকেরও বেশি সময় ভারত সফর করছেন। বিশেষত তামিলনাড়ু- যেটিকে আমি আমার আধ্যাত্মিক বাড়ি বলে মনে করি, সেখানেও ঘুরে বেড়িয়েছি। আমি যেখানে গিয়েছিল সেখানের মানুষ আমাকে ভালোবেসেছেন। এটি একটি বিচিত্র ও বিস্তীর্ণ দেশ। এখানে যেকোনও কাজ দ্রুততার সঙ্গে পরিচালনা করা খুবই সমস্যার'। হেডেন আরও লিখেছেন, যেসব নেতা বা প্রশাসনিক ব্যক্তিদের হাতে দায়িত্ব রয়েছে তাদের ওপর তাঁর পুরো ভরসা রয়েছে।  তিনি বলেন, 'কয়েক দশক ধরে খুব কাছ থেকে ভারতকে দেখেছি। সেই কারণেই ভারতের করোনা পরিস্থিতি তাঁর তাঁর যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রীতিমত বিধ্বস্ত করে তুলেছে।' কিন্তু খুবই খারাপ সাংবাদিকতা- যারা ভারতের প্রকৃত অবস্থা না বুঝে না দেখেই একাধিক মন্তব্য করেছে। আগে ভারত, সেখানের জনগণ ও সেদেশের চ্যালেঞ্জ বোঝার জন্য সময় ব্যায় করা উচিৎ। তার আগে এজাতীয় মন্তব্য করা ঠিক হবে কিনা- সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। 

মহিন্দ্রার বার্তা 
ভারতীয় ব্যবসায়ী আনন্দ মহিন্দ্রা নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে হেডেনের লেখা পোস্ট করেন। ভারতের প্রতি সমবেদনা জানানোর জন্য নিয়ে হেডেনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে হেডেনের প্রশংসা করে লিখেছেন, তাঁর বিশাল মাপের শরীরের তুলনায় তাঁর মন যে অনেক বড় সেই পরিচয় দিয়েন অস্ট্রেলিয় ক্রিকেটার। তীব্র সংকটের মধ্যেই ভারত সরকার অস্ট্রেলিয়ার তুলনায় বেশি করোনা টিকা দিয়েছেন সেকথাও জানিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন। 

হেডেনের অতীত অবস্থান 
হেডেন অস্ট্রেলিয়া-ইন্ডিয়া কাউন্সিলের সদস্য। তিনি দুই দেশের বাণিজ্য ও দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে পরামর্শ দেন। ২০০৮ সালে হেডেন ভারতে তৃতীয় বিশ্বের দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেন। আর তারপর প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েন। কিন্তু তারপরেই হেডেন নিজের মন্তব্য অনড় থেকে তাঁর মন্তব্য ফিরিয়ে নিতে অস্বীকার করেছিলেন। তখন তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন তাঁর এই মন্তব্য ভারতের প্রতি অসম্মানে উদ্দেশ্যে ছিল না। মূল উদ্দেশ্য ছিলে ভারতের অধিকাংশ জনসংখ্যা দরিদ্র সীমার নিচে অবস্থান করে- তা বোঝানো।