দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষা নিয়ে বিশেষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। দেশ জুড়ে করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষা বাতিল করার কথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবার ট্যুইট করে মোদী জানান সবার আগে পড়ুয়াদের স্বাস্থ্য ও নিরাপদে থাকার বিষয়টি সুনিশ্চিত করতে চায় কেন্দ্র সরকার। তারপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাকি বিষয়গুলি ভাবা হবে। 

 

মোদী ট্যুইট করে বলেন সারা দেশের অভিভাবকরা কেন্দ্রের কাছে আর্জি জানিয়েছিলেন তাঁদের সন্তানের স্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য। তাঁদের উদ্বেগ কেন্দ্রকে ভাবতে বাধ্য করেছে। লকডাউন গোটা দেশের শিক্ষক মহল অসাধারণ ভাবে পড়ুয়াদের শিক্ষাদান করেছে। প্রত্যেক শিক্ষিক শিক্ষিকাকে এদিন আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন মোদী। তিনি জানান, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই শিক্ষাব্যবস্থায় গতি আসবে।  

 

মোদী এদিন বলেন ২০২০ সাল থেকে পড়ুয়াদের ওপর মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে। গৃহবন্দী দশায় কাটছে তাদের শৈশব। স্কুলে যে স্বাভাবিকভাবে আনন্দের সাথে বেড়ে ওঠার পরিবেশ তারা পেত, তা হারিয়ে গিয়েছে। বন্ধুদের সাথে দেখা করার উপায় নেই। কিন্তু নিউ নর্মাল পরিস্থিতিতে সব স্বাভাবিক হবে বলে আশ্বাস দেন মোদী।

 

তিনি বলেন সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তকে প্রত্যেক অভিভাবক স্বাগত জানিয়েছেন। এই অবস্থায় পরীক্ষা বাতিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও পড়ুয়া বান্ধব সিদ্ধান্ত বলে ব্যাখ্যা করেছেন মোদী। সিবিএসই বোর্ডের দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। বৈঠকে অন্যান্য আধিকারিকরা পরীক্ষা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। করোনা ভাইরাসজনিত অনিশ্চিত পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের কাছ থেকে প্রাপ্ত প্রতিক্রিয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে সিবিএসই বোর্ডের দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা এই বছর অনুষ্ঠিত হবে না। ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই সিদ্ধান্তের পর স্বস্তি পেলেন লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।

এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ট্যুইটারে নিজের প্রতিক্রিয়াও দিয়েছেন প্রধামন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৈঠকের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় মোদী লিখেছেন 'পক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের দুশ্চিন্তার অবসান ঘটবে এই সিদ্ধান্তে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে কোনও পড়ুয়া পরীক্ষা দিতে যেত বাধ্য হবে না।