লকডাউন থোরাই কেয়ার। 'সোশ্যাল ডিস্ট্য়ান্সিং' খায় না মাথায় দেয় তা বুঝে উঠত পারল না দিল্লি। আনন্দ বিহারের বাস ডিপোয় শনিবার সারাদিন ধরে হাঁটল লাখো লোকের মাথা। যে ছবি দেখে শিউরে উঠেছেন খোদ স্বাস্থ্য় মন্ত্রকের কর্তারা। যদিও এরই মধ্য়েই রাজনীতির রসদ খুঁজে পেয়েছে আপ ও বিজেপি। পরিযায়ী শ্রমিকদের দুঃখ নিয়ে সরব হয়েছে দুই যুযুধান।

২১ দিনের লকডাউন শেষ হতে এখনও ঢের দেরি। তার মধ্য়েই পেটের  তাগিদে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে উত্তরপ্রদেশের পরিযায়ী শ্রমিকরা। শনিবার আনন্দ বিহার বাস ডিপোয় বাড়ি ফেরার তাগিদে জড় হয়েছিলেন তারা। করোনা আতঙ্কের মধ্য়ে যা দেখে ভয় পেয়েছে দেশবাসী। কারণ সোশ্যাল ডিস্ট্য়ান্সিং তো দূর গা ঘেষে বাড়ি ফেরার জন্য় ছুট লাগাচ্ছিল তারা।

স্বাস্থ্য় মন্ত্রকের আশঙ্কা,লকডাউনের মধ্য়ে এভাবে নিয়ম ভাঙায় ওই শ্রমিকদের জন্য় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে সারা দেশ। শুক্রবারই এই আশঙ্কার কথা চিন্তা করে কেন্দ্রের তরফে প্রতিটি রাজ্যকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। যেখানে নাম রয়েছে দিল্লিরও। চিঠিতে বলা হয়েছে, ভিন রাজ্যের শ্রমিকদের তাদের রাজ্যে না-ফেরাতে৷ এতে করোনা সংক্রমণের সম্ভাবনা আরও বাড়বে।  কিন্তু শনিবার খোদ দিল্লিতেই সেই নির্দেশ মানা হল না৷ এখানে কেন্দ্র ও দিল্লি সরকারের ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে৷ শুক্রবার রাত থেকে দিল্লি-গাজিয়াবাদ বর্ডার থেকেই হাজার শ্রমিক বাড়ি ফেরার উদ্যেশে তাঁদের পরিবার নিয়ে রওনা দেয়৷ শনিবার এই সংখ্যাটা কয়েক হাজারে পৌঁছয়৷

যা নিয়ে সরব হয়েছেন দিল্লির বিজেপির রাজ্য়  সভাপতি মনোজ তিওয়ারি। উত্তরপ্রদেশের পরিশ্রমিকদের নিয়ে অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে বিঁধতে ছাড়েননি তিনি। তাঁর অভিযোগ,করোনা নিয়ে যখন সারা দেশে আতঙ্কের পরিবেশ, তখন এই শ্রমিকদের ডিটিসি বাসে উত্তরপ্রদেশ বর্ডার পর্য়ন্ত পৌঁছে দিয়ে আসছে কেজরিওয়ালের সরকার। দিল্লির সরকার চায় না এই শ্রমিকরা দিল্লিতে থাকুক। অবিলম্বে কেজরিওয়ালকে বিষয়টি দেখতে বলেন তিওয়ারি। তিনি বলেন, দিল্লির মুখ্য়মন্ত্রীর উচিত, এই সময় পরিযায়ী এই শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানো। এদেরকে ১৫  দিনের রেশন দিয়ে দিল্লির আস্তানায় পাঠানো। অন্যথায় সমস্যা আরও বাড়বে।

কেজরিওয়ালকে এই বিষয়ে খোঁচা দিতে ছাড়েননি বিজেপির সম্পাদক বিএল সন্তোষ। তিনি বলেন, বেঙ্গালুরু থেকে মাত্র ৩৬ কিলোমিটার দূরে তামিলনাড়ু। একইভাবে চেন্নাই থেকে ১০০ কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে রয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ। কিন্তু কোনও রাজ্য়ে শ্রমিক খেদাওয়ে উৎসাহ দেওয়া না হলেও দিল্লিতে এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। এর পিছনে কী নীতি চলছে সেটা সবাই বুঝতে পারছে। এই সময় ভারতের যুদ্ধ করোনার সঙ্গে, দিল্লি সরকারের সেটা বোঝা উচিত। 

সূত্রের খবর, দিল্লি সরকারের এই পরিযায়ী শ্রমিক খেদাও নীতি নিয়ে যারপর নাই ক্ষুব্ধ ইউপির মুখ্য়মন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকার। তাদের অভিযোগ, এরকম একটা সময়ে ইউপি, বিহারের শ্রমিকদের মহামারির দায়িত্ব নিতে চাইছে না আপ সরকার। সেকারণে তাদের বিদ্যুতের লাইন কেটে দেওয়া হয়েছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের এলাকায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দুধ ও খাবারের গাড়ি । উল্টে উত্তরপ্রদেশ সীমান্তে তাদের বাড়ি পৌঁছনোর বাস দাঁড়িয়ে আছে বলে গুজব রটাচ্ছে কেজরিওয়ালের সরকার। বেগতিক দেখে বাড়িমুখে হতে হচ্ছে এই শ্রমিকদের।

যদিও কদিন আগেই দি্ললির মুখ্য়মন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল জানান, পরিযায়ী শ্রমিকদের এই সময়ে চিন্তার কিছু নেই। তাদের ইউপি বর্ডারের দিকে যেতে হবে না। তাদের জন্য় সব ধরনের ব্য়বস্থা করা হয়েছে। যদিও বিজেপির দাবি, বলা ও করার মধ্য়ে আকাশ-জমির পার্থক্য করেছে আপ সরকার।