ভারতের করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় তরঙ্গ ক্রমশই ভয়ঙ্কর আকার নিচ্ছে। আক্রান্তের সংখ্যা নিত্যদিনই বাড়ছে। উত্তরে কাশ্মীর থেকে দক্ষিণে কন্যাকুমারীকা- সর্বত্রই কোভিড ১৯ করাল থাবা বাসিয়েছে। আর এবার করোনা সংক্রমণ থেকে রেহাই পেল না প্রতিবেশী রাজ্যের বৌদ্ধমঠগুলিও। সিকিমে শতাধিক বৌদ্ধ ভিক্ষুক আক্রান্ত হয়েছেন করোনাভাইরাস। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানান হয়েছে প্রতিটি বৌদ্ধ মঠের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সাহায্যের হাতেও এগিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। 

সিকিমের রাজধানী গ্যাংটক থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী রুমটেক মনস্ট্রির ধর্মচক্রকে কেন্দ্র করে প্রায় ৩৭ জন সাধু করোনাভাইরাসের পরীক্ষার পর জানতে পেরেছেন তাঁরা মহামারিতে আক্রান্ত। গুঞ্জাং মঠের ৬১ জন আক্রান্ত হয়েছেন মারাত্মক ছোঁয়াচে এই ভাইরাসে। এই মঠটিকে কনটাইনমেন্ট জোন হিসেবেও ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী  নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এই এলাকায় কঠোর বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে বলেও জানিয়েছে প্রশাসন। গুঞ্জাং মঠের অধিকাংশ সন্ন্যাসিকেই সারামসা গার্ডেন আইসোলেশন সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গ্যাংটক প্রশাসন জানিয়েছে মঠটিকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা এই মঠের বাকি সন্নাসী ও তাঁদের সংস্পর্শে আসাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে নমুনা পরীক্ষা। 

স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দেওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী সোমবার সিকিমে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৩২৪। রাজ্যে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৩ হাজারের বেশি। এপর্যন্ত সিকিমে মৃত্যু হয়েছে ২২৪ জনের। আর গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ২ জনের। এই পরিস্থিতিতে সংক্রমণ রুখতে সিকিমে লকডাউনের মেয়াদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। শনিবার সিকিম সরকার ঘোষণা করেছে আগামী ৩১ মে পর্যন্ত লকডাউন চলবে রাজ্যে। সকাল ৮টা -১১টা পর্যন্ত আনাজপাতি ও সবজির দোকান খোলা থাকবে। তবে মানুষের জমায়েতের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং কোভিড প্রোটোকল মেনে চলতে রাজ্যবাসীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন।