ভারত ম্যাচে প্রায় অঘটন ঘটিয়ে ফেলাটাই বোধহয় কাল হয়ে দাঁড়াল আফগানিস্তানের জন্য। ম্যাচের আগে 'বাংলাদেশকে হাল্কাভাবে নিচ্ছি না' বলেও, কিছুটা বোধহয় আলগাই দিয়ে ফেলেছিলেন আফগানিস্তানের ক্রিকেটাররা। মাথায় রাখেননি বাংলাদেশ দলে সাকিব আল হাসান বলে এক ক্রিকেটার আছে, যিনি বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডার এবং এখন জীবনের সেরা ফর্মে আছেন। অর্থশতরান করার পাশাপাশি এদিন মাত্র ২৯ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিলেন সাকিব। আর তাতেই বাংলাদেশের ২৬২ রান তাড়া করে আফগানরা থামল ২০০ রানে। ৬২ রানে ম্যাচ জিতে পাঁচ নম্বরে উঠে গেল টাইগাররা।  

টাইটানিকের শহর সাউদাম্পটনের প্রাক ম্যাচ সাংবাদিক সম্মেলনে আফগান অধিনায়ক গুলবদিন নইব বলেছিলেন, তাঁদের ডোবা নিশ্চিত, তবে বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়ে ডুববেন। কার্যক্ষেত্রে দেখা গেল, আফগান টাইটানিকের সামনে হিমশৈল হয়ে দাঁড়ালেন সাকিব।

নইলে কঠিন উইকেটে বাংলাদেশের ২৬২ রান তাড়া করে শুরুটা ভালই করেছিল আফগানিস্তান। অধিনায়ক নইব (৪৭) ও রহমত শাহ (২৪) প্রথম পাওয়ার প্লেতে বিনা উইকেটে ৪৮ রান তুলেছিলেন। এরপরই এসে প্রথম ধাক্কাটা মারেন সাকিব। তারপর আবার ২৮ ওভারে আফগানিস্তান যখন ২ উইকেটে ১০৪ তুলে ফেলেছে, তখন আবার আক্রমণে এসে ফিরিয়ে দিলেন নইবকে। আর তার ২ বলের মধ্যে ভারত ম্য়াচে খুব ভাল ব্য়াট করা নবি (০)-র উইকেটও দখল করেন তিনি। তাঁর বাকি দুই শিকার আসগর আফগান (২০) ও নাজিবুল্লা (২৩)।

আফগানিস্তানের টপ অর্ডারের কোনও ব্যাটসম্যানই রান তোলার গতি বাড়াতে পারেননি। একেবারে শেষ দিকে নাজিবুল্লা আর সামিউল্লা (৪৯) একটা চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ততক্ষণে এই পিচে রানরেট ধরা-ছোঁয়ার বাইরে চলে গিয়েছিল।

ম্যাচের সেরা হয়েছেন অবশ্যই সাকিব। তিনি আবার নাম করলেন মুশফিকুর রহিমের। সত্যিই মুশফিকুর শেষ পর্যন্ত না থাকলে বাংলাদেশ এই রানটা তুলতে পারত না। আর সাকিব-মুশফিকুরের গড়া প্লাটফর্মে শেষ দিকে ২৪ বলে ৩৫ রান করে বাংলাদেশ ইনিংসকে ২৫০ রান পার করে দিয়েছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন। আর একেবারে ইনিংসের গোড়ায় তামিম (৩৬) ভাল শুরু করেও বড় রান পাননি। আর লিটন (১৬) -এর আউট নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাঁর তোলা ক্য়াচ শহিদি তালুবন্দী করার আগে মাটিতে পড়েছিল কিনা তা স্পষ্ট না হলেও তাঁকে সফট সিগনালে আউট দেওয়া হয়।