চলতি বিশ্বকাপে শুরু থেকেই আম্পায়ারিং-এর ছোটখাট ভুল নিয়ে কথা উঠেছে। কিন্তু, সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্য়াচেও এরকম ভুল হতে পারে, সেটা কেউ ভাবতেই পারেননি। কিন্তু সেটাই হল। একবার নয়, দুই সেমিফাইনালেই আম্পায়ারিং-এর বড় ভুলের শিকার হলেন দুই চ্যাম্পিয়ন ক্রিকেটার মহেন্দ্র সিং ধোনি ও জেসন রয়।

প্রথমে ধোনির প্রসঙ্গে আসা যাক। বুধবার নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে মার্টিন গাপ্টিলের এক অবিশ্বাস্য থ্রো-তে রান-আউট হয়ে মাঠ ছাড়েন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক। সেই সময় ভারতের ১০ বলে ২৫ রান দরকার ছিল, যা ধোনি থাকলে সম্ভব হতে পারত বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ আউট হওয়ার দুই বল আগেই একটি দারুণ ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন তিনি।

ধোনির আউট নিয়ে কোনও সংশয় নেই। কিন্তু সমস্যা হয়েছে অন্য একটি বিষয় নিয়ে। ঘধোনির আউটের বলটি হওয়ার আগেই টিভি সম্প্রচারকদের একটি গ্রাফিক্সে দেখা যাচ্ছে ৩০ গজ বৃত্তের বাইরে দাঁড়িয়ে ৬ কিউই ফিল্ডার। অথচ সেই সময় তৃতীয় পাওয়ারপ্লে-এর খেলা চলছিল। নিয়ম অনুয়ায়ি পাঁচ জনের বেশি ফিল্ডার থাকতে পারেন না বৃত্তের বাইরে।

ফলে বলটি আম্পায়ারের নো বল দেওয়া উচিত ছিল। নো বলে ধোনির রান-আউট হওয়া হয়ত আটকাতো না, কিন্তু ভারতীয় সমর্থকরা মনে করছেন ওই বলটি নো ডাকা হলে, পরের বলটিতে ফ্রিহিট পেত ভারত। সেই ক্ষেত্রে ধোনি হয়তো দ্বিতীয় রানটির জন্য দৌড়তেনই না। ম্যাচের ফল কিন্তু বদলে যেতে পারত।

তার পরের দিন দ্বিতীয় সেমিফাইনালেও জেসন রয়-কে কুৎসিত আউট দেওয়া হল। যে বলে তিনি আউউট হলেন প্য়াট কামিন্সের সেই বলটি রয়ের লেগ সাইড দিয়ে গিয়ে জমা হয় উইকেট রক্ষকের গ্লাভসে। অস্ট্রেলিয় ক্রিকেটারদের আবেদনে একটু অপেক্ষা করে ক্যাচ আউট দেন আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা।   

অথচ, রিপ্লে না দেখেও বলে দেওয়া যাচ্ছিল বলটি রয়ের ব্যাটে লাগেনি। পরে স্লোমোশনে দেখা যায় বল, ব্যাটের অন্তত ইঞ্চি খানেক বাইরে দিয়ে গিয়েছে। আলট্রা এজও নিশ্চিত করে বল, ব্য়াটে লাগেনি। এই নিয়ে মাঠেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন রয়। তাঁকে শান্ত করতে লেগ আম্পায়ারকেও হস্তক্ষেপ করতে হয়। রয় আউট হওয়ায় অবশ্য ইংল্যান্ডের জেতা আটকায়নি। তবে ওই সময় আউচ না হলে এদিন তাঁর শতরান পাকা ছিল। ৬৫ বলে ৮৫ করে যান তিনি।