আজ ইংল্যান্ডের লিডস-এ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে রাউন্ড রবিন লিগের শেষ ম্যাচ খেলতে নামছে ভারত। প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা। আবারও এক টান-টান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের সাক্ষী হবে দর্শক। ভারত সেমিফাইনালের দিকে এগিয়ে থাকলেও তারা কোনোভাবেই  শ্রীলঙ্কা-র কাছে মাথা নোয়াতে অনিচ্ছুক। বিশ্বকাপ২০১৯-এ মাত্র একটি ম্যাচে হেরে নিজেদের সেমিফাইনালের স্থান পাকা করে ভারত। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা ৮টি ম্যাচের মধ্যে ৩টি ম্যাচ হারে। ফলেই সেমিফাইনালের রাস্তা থেকে বিদায় জানায় অনেক আগেই। উত্তেজনাটা এখন অন্য জায়গায়। এক দল খেলবে পয়েন্টস টেবিলে শীর্ষস্থান পেতে। আর অন্য দল চাইবে গর্বের সঙ্গে নিজেদের বিশ্বকাপের যাত্রা শেষ করতে। তবে এটাই শেষ নয় বিশ্বকাপে এই দল দুটির মুখোমুখি হওয়ার ইতিহাস চমক দেবে যে কাউকে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে ভারত ও শ্রীলঙ্কা মোট ৮ বার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে ভারত ৩ বার এবং শ্রীলঙ্কা ৪ বার জয়ী হয়েছে। বৃষ্টির জন্য একটি ম্যাচ ভেস্তে যায়। ১৯৯৯, ২০০৩ ও ২০১১ সালের বিশ্বকাপে ভারত হারিয়েছে শ্রীলঙ্কাকে। শ্রীলঙ্কা আবার জিতেছে ১৯৭৯, ১৯৯৬ (২ বার) ও ২০০৭ সালে। 

ভারত শ্রীলঙ্কা-র প্রতিদ্বন্দিতা গুরুতরভাবে শুরু হয়েছিল ১৯৯৬ সালে। অনেক অঙ্কের রানে শ্রীলঙ্কা-র কাছে পরাজিত হয়েছিল ভারত।সেমিফাইনালে ইডেন গার্ডেন্সে তুমুল দর্শক বিক্ষোভে বন্ধ হয়ে যায় খেলা। ২০০৭ সালেও সেটার পুনরাবৃত্তি হয়। আবারও শ্রীলঙ্কা-র সামনে উৎরাতে পারে না ভারত। ৬৯ রানে হেরে তাদের বিশ্বকাপের যাত্রা শেষ করে ভারত। তবে ২০১১ সালে আমরা দেখতে পাই ভারতের অন্য রূপ। কোনও দলই জেতার সু্যোগ পায় না। ভারতের একটি অবিস্মরণীয়  জয়ের সাক্ষী আমারা সবাই। ২০১১ সালে শ্রীলঙ্কা জানিয়েছিল ভারতের কাছে  তাদের হারার অন্যতম কারণ ছিল সেই সময় শ্রীলঙ্কার বহু দক্ষ খেলোয়াড়ের অবসর। ধীরে ধীরে শ্রীলঙ্কা-র খেলোয়াড়দের প্রদর্শনও খারাপ হতে থাকে। এই বিশ্বকাপেও সেটা  চোখে পরেছে সকলের। লাসিথ মালিঙ্গা এবং মাথিউজ ছাড়া কোন খেলোয়াড় ই তাঁদের প্রদর্শনে সেভাবে প্রভাবিত করতে পারেনি। অন্যদিকে শিখর ধাওয়ান চোটের কারণে ছিটকে যাওয়ায় গুরুভার এখন বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মা-র কাঁধে। কে এল রাহুল শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভাল রান করলেও তা এই ম্যাচেও বজায় থাকবে কিনা সে নিয়ে চিন্তা সকলের।