'নসিব উনকে ভি হোতে হ্যায় যিনকে হাত নাহি হোতে' মির্জা গালিব-এর এই দারুণ মিস্টি পঙক্তি শুনতে খুব ভালো লাগলেও ভবিষ্যতের খবর আগাম জানতে কে না চায়। বিশেষ করে খেলার মাঠে জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রয়োগ বেশ চালু বিষয়। ক্রীড়াবিদদের মধ্যেও নানা রকম কুসংস্কার থাকে। অনেকে জ্যোতিষীর মত নিয়ে পাল্টে ফেলেন জার্সি নম্বর। আবার বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টের আগে প্রথিতযশা জ্যোতিষীরা তাঁদের ছক অনুযায়ী বিজয়ী দল বা কোনও দল কতদূর যেতে পারে তার পূর্বাভাস নিয়ে আসরে নামেন। ২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপও তার ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু, আপামর ভারতবাসী যেখানে বিরাট কোহলির নেতৃত্বে ভারতের তৃতীয় বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখছে, সেখানে জ্যোতিষ মহল কিন্তু ভারতের জন্য বেশ খারাপই খবর শোনাচ্ছে।

জনপ্রিয় জ্যোতিষী গ্রিনস্টোন লোবো খোলাখুলি জানিয়ে দিয়েছেন ভারতের এইবার কাপ জেতার কোনও সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না। তাঁর মতে ভারতের দুর্ভাগ্যের প্রধান কারণ অধিনায়ক বিরাট কোহলি। লোবো জানিয়েছেন তাঁর গণনা অনুযায়ী ভারত অধিনায়ক যদি ১৯৮৬ বা ১৯৮৭ সালে জন্মাতেন তাহলে দলের বিশ্বকাপ জেতার সম্ভাবনা উজ্জ্বল থাকত। কিন্তু সমস্যা হয়েছে বিরাট কোহলি ১৯৮৮ সালে জন্মানোয়। তাতেই ভারতের কাপ জয়ের আশা কমেছে।

লোবো জানিয়েছেন, বিরাট কি সত্যি সত্যিই ১৯৮৮-তেই জন্মেছিলেন, না ২-১ বছর এদিন ওদিক রয়েছে, তা নিশ্চিত হতে তিনি বিরাটের ছোটবেলার কোচ রাজকুমার শর্মাকেও ফোন করেছিলেন। কারণ ভারতের হাতে এত ভালো দল থাকা সত্ত্বেও তাঁর গণনায় কাপ জেতার সম্ভাবনা কম বের হওয়ায় তিনি নিজের গণনাকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। তাঁর মনে মনে প্রার্থনা করেছিলেন বিরাট যেন ৮৬ বা ৮৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন। কিন্তু তাঁকে হতাশ করে রাজকুমার শর্মা জানিয়েছেন বিরাট সত্য়ি সত্যি ১৯৮৮-জাত।

শুধু তাই নয়, ভারতের দুর্ভাগ্য আরও বাড়িয়েছে দলে মহেন্দ্র সিং ধোনির উপস্থিতি। সত্যি বলতে মিডল অর্ডার ব্য়াটসম্যান, এখনও সেরা উইকেটরক্ষক, অধিনায়কের পরামর্শদাতা, স্পিনারদের জন্য ছকের রচয়িতা - বর্তমান ভারতীয় দলে বিভিন্ন ভূমিকায় ধোনি একেবারে অপরিহার্য। কিন্তু এতকিছু ইতিবাচক দিকের সঙ্গে দলের জন্য দুর্ভাগ্যও বয়ে আনবেন ধোনি -এমনটাই মত গ্রিনস্টো লোবোর।

তিনি জানিয়েছেন ক্রিকেট ভক্ত হিসেবে তিনি ধোনির খুব বড় ভক্ত। কিন্তু ক্রিকেট ভক্তের পাশাপাশি তিনি একজন জ্যোতিষী-ও বটে। সেই দিক থেকে বলতে গেলে খারাপ লাগলেও বলতেই হবে, ধোনি না থাকলে ভারতের কাপ জয়ের সম্ভাবনা কিছুটা হলেও বাড়ত। তিনি জানিয়েছেন দীর্ঘদিন কিসমত (ভাগ্য) ছিল প্রাক্তন ভারত অধিনায়কের পক্ষে। একেবারে নির্ভরযোগ্য ছিলেন তিনি এই বিষয়ে। তবে এই মুহুর্তে তার ওয়াক্ত (সময়) আর ভালো নেই।

লোবোর কথা আরও গুরুত্ব পাচ্ছে কারণ এর আগে কিন্তু ২০১১ ও ২০১৫ সালে - দুই দুইবার ক্রিকেট বিশ্বকাপের আগে তাঁর করা পূর্বাভাস একেবারে মিলে গিয়েছিল। তবে ওই যে শুরুতেই উল্লেখ করা হয়েছিল মীর্জা গালিবের অমোঘ পঙক্তি - 'নসিব উনকে ভি হোতে হ্যায় যিনকে হাত নাহি হোতে'। গালিব যেটা বলেননি, তা হল যাদের হাতে ব্য়াট-বল থাকে তারা চাইলে 'নসিব' নিয়ন্ত্রণ-ও করতে পারে। কাজেই লোবো যাই বলুন, বিশ্ব-জয়ের প্রত্যাশা নিয়েই টুর্নামেন্টে চোখ রাখবেন ভারতীয় সমর্থকরা।