বুধবার ভোর ৪টে ১০ এর বিমান ধরে বিশ্বকাপের দেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন বিরাট কোহলিরা। তারপর আগামী ২৫ ও ২৭ তারিখ যথাক্রমে নিউজিল্যান্ড ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টিম ইন্ডিয়া খেলবে দুটি অনুশীলন ম্যাচ। তারুপর ৫ জুন দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিয়ান শুরু করবে মেন অন ব্লু।
তবে বিশ্বকাপের আসল ম্যাচ ১৬ জুন। ওই দিন ম্যাঞ্চেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ড স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে ভারত ও পাকিস্তান। ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে উত্তেজক মোকাবিলা নিয়ে এখন থেকেই ইংল্যান্ডে চাপা উত্তেজনা রয়েছে। ফাইনাল, সেমিফাইনাল ম্য়াচগুলির থেকেও ভারত-পাক ম্যাচের টিকিটের চাহিদাই সবচেয়ে বেশি ছিল বলে জানিয়েছে আইসিসি। ২৫,০০০ টিকিটের জন্য আবেদন জমা পড়েছিল ৫ লক্ষ। ৪৮ ঘন্টার ভিতরেই বিক্রি হয়ে যায় সব টিকিট।

তবে এই ম্যাচ আদৌ হবে কিনা তাই নিয়েই সংশয় দেখা দিয়েছিল বছরের শুরুতে। ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রথমে পুলওয়ামায় ভারতীয় সেনা বহরে জঙ্গি হামলা ও তারপর বালাকোটে বিমান হানায় ভারতের জবাব - ভারত-পাকিস্তান দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বছরের শুরুতেই তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। যার জেরে ভারত পাকিস্তান ম্যাচ বয়কট করতে পারে বশোনা গিয়েছিল। এমনকী সচিন সৌরভের মতো দুই কিংবদন্তিও এই ইস্যুতে ভিন্নমতে ছিলেন।

ভারতের সাধারণ নির্বাচনের মধ্যে সেই উত্তেজনার আঁচ অনেকটাই থিতিয়ে গিয়েছে। কাজেই আপাতত মাঠে লড়েই পাকিস্তানকে মোক্ষম জবাব দিতে চাইছে ভারত। কিন্তু তার জন্য কী রণকৌশল সাজিয়েছেন শাস্ত্রী-কোহলি?

এদিন সাংবাদিকদের সামনে শাস্ত্রী জানালেন পাকিস্তান ম্যাচের জন্য কোনও আলাদা করে প্রস্তুতি নেওয়া হবে না। ক্রিকেটাররা বাড়তি কিছু করে দেখাতে গেলে মুশকিল হতে পারে। তাই অন্যান্য প্রতিপক্ষের মতো করেই দেখা হবে পাকিস্তানকেও। ক্রিকেটের মান ও তীব্রতার উপরেই ফোকাস করা হবে। তাতেই সাফল্য আসবে বলে মনে করছেন ভারতের প্রধান কোচ।   

তবে এই বারের বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচের মধ্যে পর্যাপ্ত সময় থাকায় তা দলের পক্ষে সুবিধার হবে বলে জানিয়েছেন কোহলি। কারণ পাকিস্তানের মতো উত্তেজনাপূর্ণ ম্য়াচ ক্রিকেটারদের মানসিক ও শারীরিকভাবে নিংড়ে নেয়। পর্যাপ্ত সময় পাওয়ায় বিশ্রাম নিয়ে পরের ম্যাচের জন্য তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকবে। প্রথম চার-পাঁচটি ম্যাচই সবচেয়ে কঠিন হবে বলে মনে করছেন তিনি। সেই ম্যাচগুলিতে ছন্দ পেয়ে গেলে, তারপর বাকি সময় ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। তাহলেই কাপ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।