বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য রবিবারটা এক অতি আনন্দের দিন। ক্রিকেট পাগল দেশ বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বার দক্ষিণ আফ্রিকার মতো বড় দেশকে সব বিভাগেই টেক্কা দিয়ে পরাজিত করল। দুর্দান্ত ব্য়াটিং-এর পর সুপরিকল্পিত বোলিং-এর নিদর্শন রেখেছেন বাংলাদেশী বোলাররা। তবে একমাত্র মাশরাফে মোর্তাজাই বেশ মার খেয়েছেন। তবে অধিনায়ক হিসেবে কিন্তু তিনি এই ম্যাচ জয়ের ফলে এমন এক অনন্য রেকর্ড গড়ে ফেললেন যা আর কোনও বাংলাদেশাী অধিনায়কের নেই।

এদিন দুটি স্পেলে বল করতে এসেছেন মাশরাফে। কিন্তু দুটি ক্ষেত্রেই বেশ রান দিয়েছেন। সব মিলিয়ে এদিন ৬ ওভার হাত ঘুরিয়ে ৪৯ রান দিয়েছেন তিনি। উইকেট জোটেনি একটিও।

তবে এদিনের জয়ের ফলে বাংলাদেশী অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপে চারটি ম্যাচ জেতা হয়ে গেল তাঁর। ফলে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্য়াচ জয়ী বাংলাদেশী অধিনায়ক হলেন তিনি।

২০১৫ সালে তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ তিনটি ম্যাচে জয় পেয়েছিল। পরাজিত করেছিল আফগানিস্তান, স্কটল্যান্ড এবং ইংল্য়ান্ডকে। এরপর চলতি বিশ্বকাপে প্রথম ম্য়াচেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে জয় পেল তাঁর দল। তাঁণর কাছাকাছি আছেন সাকিব আল হাসান ও বাবিবুল বাশার। দুজনেই অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে ৩টি করে ম্যাচ জিতিয়েছিলেন।

শুধু জয়ের সংখ্যাতেই নয়, বিশ্বকাপে জয় পরাজয়ের শতাংশ হারেও মাশরাফে অন্যান্য বাংলাদেশী অধিনায়কদের থেকে অনেক এগিয়ে আছেন। ৬টি ম্য়াচে নেতৃত্ব দিয়ে ৪টিতে জিতলেন তিনি। অর্থাৎ সাফল্য পেয়েছেন ৬৬.৬৭ শতাংশ। সেখানে সাকিব অধিনায়ক হিসেবে ৩টি জয় পেয়েছিলেন ৭ ম্য়াচ খেলে (৪২.৮৬ শতাংশ)। আর বাশার ৩ ম্য়াচ জিতেছিলেন ৯ বিশ্বকাপ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে (৩৩.৩৩ শতাংশ)।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি জয় -

মাশরাফে মোর্তাজা: ৬ ম্যাচের ৪টিতে
সাকিব আল হাসান: ৭ ম্যাচের ৩টিতে
হাবিবুল বাশার: ৯ ম্যাচের ৩টিতে
আমিনুল ইসলাম: ৫ ম্যাচের ২টিতে
খালেদ মাসুদ: ৬ ম্যাচে একটিও জয় পাননি

এদিন ম্য়াচ জিতে উঠে তিনি জানিয়েছেন, প্রথম ম্যাচেই টুর্নামেন্টের ছন্দটা তৈরি হয়ে যায়। আর সেইদিক থেকে বিশ্বকাপ ২০১৯-এর শুরুটা বাংলাদেশের বেশ ইতিবাচক হয়েছে বলেই মনে করেন বাংলাদেশী অধিনায়ক।

বিশ্বকাপের আগে ইংরেজ পিচ ও পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে বাংলাদেশ আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলেছিল। সেখানে জয় পাওয়াই তাদের একটা জয়ের ছন্দে এনে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মোর্তাজা।

তিনি আরও জানান, আগে ব্যাট না বল করা উচিত, টসের সময়ও সেই বিষয়ে তিনি নিশ্চিত ছিলেন না। তবে আগে এই পিচে একটি ম্য়াচ হয়ে যাওয়াতে আগে ব্যাট করতে অসুবিধা হবে না বলেই মনে করেছিলেন। আর সেটাই প্রমাণ করে দেন সৌম্য সরকার। তরুণ এই ব্য়াটারকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন অধিনায়ক।

তাঁর মতে সৌম্য শুরুতে উচ্চ স্ট্রাইক রেট রেখে ইনিংস শুরু করে প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দিয়েছিল বড় ইনিংস গড়ার। তাকেই পরের দিকে মুশফিকুর রহিম, সাকিবরা তাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পেরেছেন। আর মাহমুদুল্লাহ এবং মোসাদ্দেক ইনিংসটিকে ভালভাবে শেষ করেন।

আর বোলিং-এর সময় সঠিক লাইন লেন্থে বল রাখাতেই তাঁরা নজর দিয়েছেন। সেই সঙ্গে বোলার পরিবর্তনও সবকটিই এদিন খেটে গিয়েছে। এখানে উল্লেখযোগ্য, মাশরাফে কিন্তু নিজেকেও কসুর করেননি। মার খেয়ে যাচ্ছেন দেখে নিজেকে সরিয়ে স্পিনারদের এনেছেন। সেই স্পিনারদের বাহবা দিয়েছেন তিনি। অধিনায়কের মতে, তাঁরাই মুস্তাফিজুর এবং সাইফুদ্দিন -এই দুই জোরে বোলারের উইকেট নেওয়ার মঞ্চ তৈরি করে দিয়েছিলেন।