করোনা অতিমারী ২২ গজের সঙ্গে বাড়িয়েছে দূরত্ব। কবে পুরোপুরি স্বাভাবিকভাবে মাঠে ফিরতে পারবেন তাও অজানা। আর্থিক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে অনেক ঘরোয়া ক্রিকেটার থেকে ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত অনেককেই। এই পরিস্থিতি নিজে ও পরিবারকে সুস্থ-ফিট রাখার পাশাপাশি করোনা কালে  কীভবে সকলকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া যায়, সব কিছু নিয়েই এশিয়ানেট নিউজ বাংলার সিনিয়র এডিটর দেবজ্যোতি চক্রবর্তীকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকার দিলেন বাংলার খ্যাতনামা ক্রিকেটার অনুষ্টুপ মজুমদার।

এশিয়ানেট নিউজ বাংলাঃ কোভিড বিধি মেনে নিজেকে সুস্থ ও ফিট রাখার পাশাপাশি পরিবারকেও সুস্থ রাখা, কীভাবে সামলাচ্ছেন পুরো বিষয়টা?
অনুষ্টুপ মজুমদারঃ যতটা সম্ভব বাড়িতেই থাকার চেষ্টা করছি। একেবারে প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বেরোচ্ছি না। বেরোলেও যাবতীয় নিয়ম মেনে বেরোচ্ছি। এছাড়া গারগেল করা, ভেপার নেওয়া সহ যা যা চিকিৎসকরা বলছেন সেগুলিও করছি।

এশিয়ানেট নিউজ বাংলাঃ ক্রিকেট যাদের ধ্যান-জ্ঞান, এই কঠিন সময়ে দাঁড়িয়ে তাদের কী পরামর্শ দেবেন?
অনুষ্টুপ মজুমদারঃ যারা একটু খেলে আর্থিকভাবে স্বচ্ছন্দ তারা এই পরিস্থিতি কিছুটা হলেও সামলে নিতে পারবে। কিন্তু যারা নতুন শুরু করেছে, কিংবা খেলা যদি ২-৩ বছর বন্ধ থাকে তাহলে তাদের পক্ষে সামাল দেওয়াটা খুব সমস্যার হয়ে দাঁড়াবে। কারণ খেলা না হলে উপার্জন হবে না, তাই যারা নতুন কেরিয়ার শুরু করেছে তাদের এই সময়টা মানসিক ও আর্থিক দুই দিক দিয়েই খুব কঠিন। কিন্তু সবাইকে বলব আশা ছেড়ো না, এই পরিস্থিতি এক দিন না একদিন শেষ হবেই, নিজেকে তৈরি রাখো যাতে ফিরেই নিজেকে প্রমাণ করা যায়। 

এশিয়ানেট নিউজ বাংলাঃ এই পরিস্থিতি আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া ক্রিকেটার বা ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত অন্য়ান্যদের সাহায্যের জন্য বাংলার সিনিয়র ক্রিকেট মহল কোনও ভাবনা চিন্তা করছে?
অনুষ্টুপ মজুমদারঃ গতবছর আমরা সিনিয়র প্লেয়াররা মিলে মাঠের মালিদের সাহায্য করেছিলাম। এবছরও ভাবনা চিন্তা রয়েছে কিছু একটা করার। প্লেয়ার সহ অন্যান্য যারা ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত যেমন আম্পায়ার, স্কোরার সকলকে যতটা সম্ভব সাহায্য করা যায়।

এশিয়ানেট নিউজ বাংলাঃ কোভিড পরিস্থিতিতে সিএবির তরফ থেকে আলাদাভাবে কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে?
অনুষ্টুপ মজুমাদরঃ সিএবির গত বছর প্লেয়ারদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। খেলা না হলেও, একটা শতাংশ কেটে বাকি স্যালারি দেওয়া হয়েছিল। শুধু সিনিয়র দল নয় অনুর্ধ্ব ১৯, অনুর্ধ্ব ২৩ সকলকেই স্যালারি দেওয়া হয়েছিল। বাকিদের জন্যও সাহায্য করেছিল সিএবি। এই বছর এখনও কোনও ঘোষণা না হলেও, সিএবির তরফ থেকে জানানো হয়েছে সেপ্টেম্বর থেকে খেলা শুরু হতে পারে। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে করোনা পরিস্থিতির উপর। তবে খেলা শুরু হলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে সকলের স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

এশিয়ানেট নিউজ বাংলাঃ ক্রিকেট শুরু হলে আগামি রঞ্জি থেকে শুরু করে অন্য়ান্য ঘরোয়া ক্রিকেটের জন্য নিজেকে কীভাবে তৈরি রাখছেন?
অনুষ্টুপ মজুমদারঃ অনুশীলন করা তো এই মুহূর্তে সম্ভব নয়, তবে ফিজিক্যাল ট্রেনিং করা ও ফিটনেস ট্রেনিং করাটা আমার হাতে রয়েছে। তাই নিজেকে যতটা সম্ভব ফিট ও মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখার চেষ্টা করছে। সেপ্টেম্বর থেকে আমাদের মরসুম শুরু হওয়ার কথা। তার আগে অনুশীলন ছাড়া নিজেকে যতটা তৈরি রাখা যায় সবকিছুই করছি। 

এশিয়ানেট নিউজ বাংলাঃ বিগত কয়েকটি মরসুমের তুলনায় গত মরসুমে শেষ রঞ্জি ট্রফিতে বাংলা খুব ভালো পারফর্ম করেছিল। রঞ্জি ফাইনালে গিয়েছিল। তারপর এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘ বিরতি। সেই পারফরমেন্স কী ধরে রাখা সম্ভব।
অনুষ্টুপ মজুমদারঃ সেই পারফরমেন্স যাতে ধরে রাখা যায় তার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে। মানসিকভাবে নিজেকে সবথেকে বেশি তৈরি রাখতে হবে। যাতে কোনও প্রতিযোগিতা যদি শুরু হয়, তাহলে আমি খেলার জন্য প্রস্তুত থাকতে পারি। ফলে মানসিক প্রস্তুতিটাই সবথেকে বেশি জরুরি। এছাডা ফিটনেস ট্রেনিং চালিয়ে যাওয়া। আমাদের যিনি ট্রেনার আছেন তিনি আমাদের মণিটরও করেন। 

এশিয়ানেট নিউজ বাংলাঃ বাংলা দলে এই মুহূর্তে কতজন প্রতিশ্রুতিমান প্লেয়ার রয়েছেন যারা ভারতীয় দলে খেলার দাবি জানাতে পারে?
অনুষ্টুপ মজুমদারঃ প্রতিশ্রুতিমান অনেক প্লেয়ার রয়েছে। কিন্তু ওরকমভাবে বলাটা খুব কঠিন কারা ভারতীয় দলে খেলবে। কোনওবছর পারফরমেন্স খুব  ভালো হয়, কোনও বছর খারাপ। আবার এখন অনেক সময় এক মরসুম ভালো খেলেই সুযোগ পাওয়া যায়। তবে প্রতিশ্রুতিমান প্রচুর প্লেয়ার রয়েছে যারা ভবিষ্যতে ভারতীয় দলের হয়ে খেলতে পারেন।

এশিয়ানেট নিউজ বাংলাঃ আপনার অনেক সতীর্থ রাজনীতিতে এসেছে, ভবিষ্যতে আপনারও তেমন কোনও পরিকল্পনা রয়েছে?
অনুষ্টুপ মজুমদারঃ না আপাতত রাজনীতিতে আসার তেমন কোনও পরিকল্পনা নেই,খেলাতেই মনোযোগ দিতে চাই। খেলা ছাড়ার পর ভাবনা-চিন্তা করা যাবে। কী করব তখনই ঠিক করব।