২০১১ বিশ্বকাপে কেরিয়ারের সেরা ফর্মে ছিলেন যুবরাজ সিং। গোটা বিশ্বকাপে ব্যাট হাতে ৪টি হাফ সেঞ্চুরি ও একটি সেঞ্চুরি সহকারে করেছিলেন ৩৬২ রান। বল হাতেও নিয়েছিলেন ১৫ উইকেট। বিশ্বকাপে ম্যান অব দ্য সিরিজও নির্বাচিত হন পঞ্জাব দ্য পুত্তর। কিন্তু তারপরই যুবরাজ সম্মুখীন হন জীবনের সব থেকে কঠিন লড়াইয়ে। ক্যান্সারে আক্রান্ত হন তারকা ভারতীয় ক্রিকেটার। ক্যান্সারের মত মারণ রোগকে পরাস্ত করে জীবন যুদ্ধে জয়ী হওয়া যুবরাজের গাঁথা চিরকাল থেকে যাবে ক্রিকেট ইতিহাসে। কিন্তু ক্যান্সারকে হারিয়ে ফের দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার ইচ্ছে ও তার জন্য যে লড়াই করতে হয়েছিল যুবিকে সেটাও কম নয়। কারণ ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পরে শরীর আগের মত থাকে না। কিন্তু মাঠই যার জীবন সে কতদিন দিন সবজ গালিচা থেকে দূরে থাকবে?জীবনের এমন কঠিন অধ্যায় কাটিয়ে ক্রিকেটে ফেরার শক্তি পেলেন কোথায় যুবরাজ? তারকা অল-রাউন্ডার নিজেই জানালেন, জীবনের সবথেকে কঠিন সময়ে তাঁকে ক্রমাগত প্রেরণা জুগিয়েছেন সচিন তেন্ডুলকর। 

আরও পড়ুনঃ১৪ বছরের আন্তর্জাতিক কেরিয়ার,তার বোলিংয়ে মুগ্ধ সচিনও, এখন লোকের বাড়ি বাড়ি এসি সারান রে প্রাইস

ক্যান্সারের চিকিৎসার সময়ে সচিন আগাগোড়া পাশে ছিলেন যুবরাজের। তবে সুস্থ হয়ে ওঠার পর সচিনের পরামর্শ আরও বেশি করে দরকার ছিল যুবির। কারণ ভারতীয় দলের কামব্যাকের জন্য তাকে পুনরায় ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণ করতে হত। আর দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় যেই প্লেয়ার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন, তাকে ফের ঘরোয়া ক্রিকেটে মানিয়ে নেওয়াটা কতটা কঠিন কাজ তা একজন প্লেয়ার ছাড়া কেউ বুঝতে পারবে না। এই কঠিন কাজটাই যুবরাজ ৩-৪ বছর ধরে অনায়াসে করে গিয়েছেন তেন্ডুলকরের প্রেরণাতেই। যুবরাজ বলেন, ‘আমার কেরিয়ারে বেশ কিছু উত্থান-পতন রয়েছে। আমি সর্বদা সচিনের সঙ্গে কথা বলতাম। সচিন আমাকে বলেছিল, আমরা কেন ক্রিকেট খেলি? অবশ্যই আমরা সবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে চাই। তবে আমরা ক্রিকেট খেলি খেলাটাকে ভালোবাসি বলে। যদি তুমি খেলাটাকে ভালোবাসো,তবে তুমি ক্রিকেট খেলবে।'

আরও পড়ুনঃকরোনা মহামারীর জের, প্রশ্নে আইসিসির টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ভবিষ্যৎ

আরও পড়ুনঃদেশের অধিনায়ক ছিলেন, বর্তমানে অভাবের তাড়নায় একটি চাকরির জন্য ঘুরছেন দরজায় দরজায়

সচিন আরও কিছু পরামর্শ দিয়েছিলেন যুবিকে। প্রাক্তন অল-রাউন্ডারের কথায়, ‘সচিন বলে, যদি আমি ওই পরিস্থিতিতে থাকি, ঠিক করা মুশকিল কী করা উচিত। তবে ক্রিকেটকে যদি তুমি ভালোবাসো তবে খেলা চালিযে যাবে এবং নিজেই ঠিক করবে কখন খেলা ছাড়বে। সেটা তোমার হয়ে কেউ ঠিক করে দেবে না।’ শেষে যুবি বলেন, ‘সচিনের সঙ্গে ক্রমাগত আলোচনার ফলেই ৩-৪ বছর ঘরোয়া ক্রিকেট খেলি এবং কামব্যাক করি জাতীয় দলে।’ যদিও দেশের জার্সিতে এত বছর খেলার পরও কেরিয়ার সেষে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড তাকে যোগ্য সম্মনা দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন যুবরাজ। বলেছেন কোনও বর্ণাঢ্য বিদায়ী সংবর্ধনা নয়, শুধু যোগ্য সম্মান চেয়েছিলাম। যদিও তার দুঃসময়ে সচিন যেভাবে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন তার জন্য মাস্টার ব্লাস্টারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন যুবরাজ সিং।