নতুন সরকার দেবে নতুন দিনের খোঁজ। যে দিনে গরীব পাবে দু' মুঠো ভাত, বন্ধ হবে হানাহানি। এই প্রত্যয়েই ইভিএমের বোতাম টিপে বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রের বেলডাঙ্গায় হাসতে হাসতে বেরিয়ে এলেন শ্রীমতি খাটোর।  পরিচয়পত্র, হুইলচেয়ার ইত্যাদি অনুষঙ্গ জানান দিচ্ছে তাঁর বয়েস ১০২। ভোটের ফল যাই হোক, শ্রীমতী খাটোরের হাতেই লোকসভা ভোটের চতুর্থ দফায় বহরমপুরে জয় হল গণতন্ত্রের। 

বয়স বড় বালাই। তার মধ্যে শরীরের অবস্থাও মোটেই রাস্তায় বেরোনোর মতো নেই আর। কিন্তু নিজের ভোটটা যে দিতেই হব! তাই এদিন সকালে রীতিমতো সেজেগুজে পরিপাটি হয়ে বসেছিলেন এই বৃদ্ধা। তাঁকে টোটোয় চড়িয়ে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে নিয়ে যান তাঁর নাতিনাতনিরাই।  টোটো থেকে নেমে হুইলচেয়ারে চেপে বুথের কাছাকাছি যান তিনি। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে সরাসরি ইভিএমে। সদর্পে প্রয়োগ করলেন নিজের ভোটাধিকার।  সব দেখেশুনে তাজ্জব ভোটকর্মীরাও।

নিজের গড় বহরমপুর সামলাতে এবার যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে অধীর চৌধুরীকে। সাতসকালে পোলিং এজেন্টকে ঢুকতে দেওয়া নিয়ে একদফা অশান্তি সামলাতে হয়েছে কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুলে।  বেলা বাড়তেই আবার ব্যপক বিক্ষোভ শ্রীগুরু পাঠশালায়। তবে এইসব ভোটাভোটির ক্লেদ বোধহয় ধুয়ে দিলেন শ্রীমতী খাটোর।

বেলডাঙ্গা অঞ্চলের বাসিন্দা খাটোর পরিবার আদতে রাজস্থান থেকে পাড়ি জমায় মুর্শিদাবাদে। তবে শ্রীমতী খাটোর জিয়াগঞ্জের মেয়ে। বিয়ে হয়ে আসেন বেলডাঙ্গায়। কলকাতার বাসিন্দা, তাঁর নাতনি স্মিতা খাটোর বলছিলেন ঠাকুমার কথা। " পাঁচ ছেলে, তিন মেয়ে, বৌমা, নাতি নাতনি, নাতবৌ, নাতজামাই, নাতির ছেলেমেয়েদের নিয়ে বিরাট সংসার ঠাকুমার। সংসারের রাশ আজও তাঁর হাতেই। তাঁর রাজনৈতিক সচেতনতা কমবয়েসিদেরও হার মানাবে। ভোটপ্রচারে কোনও দলীয় কর্মী এলে চোখে চোখ রেখে প্রশ্ন করেন আজও।"

বহরমপুর এবার অন্য ছবি দেখেছে ভোটে। রীতিমতো বলিউডি কায়দায় রাজত্ব করা কংগ্রেস নেতা অধীরঞ্জন চৌধুরীকে এবার ছুটিয়ে মেরেছে ভোটের হাওয়া।  ছাপ্পা নিয়েও অভিযোগ করেছেন কমিশনকে। শেষমেশ বহরমপুর শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারবেন অধীর? মেয়া ফলার খবর পেতে অপেক্ষা করতে হবে আরও তিনদফা। তবে জনতার রাজনৈতিক শিক্ষাই যে গণতন্ত্রের হাতিয়ার, মানুষই যে শেষমেশ ঠিক করবে কার হাতে উঠবে ব্যাটন এ কথা গোটা দেশকে শিখিয়ে গেল তাঁর কেন্দ্রই। সৌজন্যে  শ্রীমতী খাটোর। বয়স ১০২।