প্রত্যাশা মতোই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দায়িত্ব পেলেন অমিত শাহ। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী করা হল রাজনাথ সিংহকে। আর অসুস্থতার কারণে অব্যাহতি নেওয়া অরুণ জেটলির জায়গায় নতুন অর্থমন্ত্রী হলেন নির্মলা সীতারমণ। ইন্দিরা গাঁধীর পরে তিনিই দেশের দ্বিতীয় মহিলা অর্থমন্ত্রী। রেল দফতরের দায়িত্ব থাকছেন পীযূষ গয়ালই।

লোকসভা ভোটের ফল বেরনোর পর থেকেইন গত কয়েকদিন ধরেই চর্চা চলছিল, অমিত শাহ এবার মন্ত্রিসভায় আসছেন কি না। সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন অমিত শাহ। তাঁকেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে বসানোর সিদ্ধান্ত নিলেন প্রধানমন্ত্রী। আর গুরুত্ব না কমিয়েই গত মন্ত্রিসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা রাজনাথকে দেওয়া হয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্ব। তবে বিদেশমন্ত্রী পদে চমক দিয়েছেন মোদী। সেখানে আনা হয়েছে সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্করকে। রাজনীতিতে আসার আগে কুটনীতিক হিসেবে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে সিঙ্গাপুর, চিন, আমেরিকার মতো দেশে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন তিনি। লোকসভা নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দিতা না করলেও তাঁকে মন্ত্রী করা হল। পরবর্তী সময়ে সম্ভবত রাজ্যসভা থেকে তাঁকে জিতিয়ে আনা হবে। সুষমা স্বরাজও অসুস্থার কারণে সরে যাওয়ায় যোগ্য বিদেশমন্ত্রীর খোঁজে ছিলেন মোদী-শাহরা। শেষ পর্যন্ত নবাগত সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্করকেই বেছে নেওয়া হল। 

নতুন মন্ত্রিসভায় নিজের হাতেও একাধিক দফতরের দায়িত্ব রেখেছেন নরেন্দ্র মোদী। তার মধ্যে অন্যতম মহাকাশ গবেষণা এবং পারমাণবিক শক্তি দফতর। এ ছাড়াও আগের বারের মতোই কর্মীবর্গ, গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণের মতো দফতরগুলিও নিজের হাতে রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। মন্ত্রীবিহীন দফতরের সব দায়িত্বও সামলাবেন তিনি। 

বাংলা থেকে এবার দুই প্রতিমন্ত্রী জায়গায় পেয়েছেন মন্ত্রিসভায়। তার মধ্যে দফতর বদল হয়েছে বাবুল সুপ্রিয়র। এর আগের বার তিনি ছিলেন ভারী শিল্প দফতরের প্রতিমন্ত্রী। এবারে পরিবেশ, বন এবং জলবায়ু পরিবর্তন দফতরের দায়িত্ব পেলেন বাবুল। আর প্রথমবার বাংলা থেকে মন্ত্রী হওয়া রায়গঞ্জের সাংসদ দেবশ্রী চৌধুরীকে নারী এবং শিশুকল্যাণ দফতরের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। 

রাহুল গাঁধীকে হারিয়ে আসা স্মৃতি ইরানিকে নারী এবং শিশুকল্যাণের পাশাপাশি বস্ত্র দফতরের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। গত মন্ত্রিসভার মতোই আইনমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকছেন রবিশঙ্কর প্রসাদ। হর্ষবর্ধনকে করা হয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রী। মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রমেশ পোখরিয়াল নিশাঙ্ককে। 

মন্ত্রিসভায় অবশ্য শরিকদের প্রতীকী প্রতিনিধিত্বই রাখতে চেয়েছেন মোদী- শাহরা। নিজেদের দলের সাংসদ সংখ্যাই তিনশো ছাড়িয়ে যাওয়ায় মন্ত্রিত্বের দাবিদার ছিলেন অনেকে। আবার সেই কারণেই শরিকদের উপরে বেশি নির্ভরশীল হতে হচ্ছে না মোদী-শাহদের। শোনা যাচ্ছে বিজেপি নেতৃত্বের কাছে রেল মন্ত্রকের দাবি জানিয়েছিলেন জেডিইউ প্রধান নীতীশ কুমার। কিন্তু সেই দাবি তো মানা হয়নি, বরং বিহার ফিরে নীতীশ নিজেই জানান, প্রতীকী প্রতিনিধিত্বে দল রাজি নয় বলেই মন্ত্রিসভায় থাকতে রাজি হননি তাঁরা। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য এ নিয়ে কোনও ক্ষোভ প্রকাশ করেননি। তাঁর দাবি, মন্ত্রিত্ব নিয়ে জেডিইউ-এর কোনও দাবি ছিল না। বিজেপি সভাপতি আগেই তাঁকে বলেছিলেন, প্র্তীকী হিসেবে একজন মন্ত্রী তাঁদের দল থেকে করা হবে। কিন্তু দলের সঙ্গে আলোচনা করেই সেই প্রস্তাবে রাজি হননি জেডিইউ প্রধান।