অবশেষে হতে চলেছে প্রতীক্ষার অবসান। টানা সাত দফায় চলা নির্বাচনের পরে ক্ষমতার আসনে কে বসবেন আর কোন দলের ভাগ্যে কী রয়েছে সবটা জানা যাবে ২৩ মে।

রাজ্যের মানুষের চোখ থাকবে বাংলায় কীভাবে ভোট গণনা হচ্ছে তার উপরেও। ৪২ লোকসভা কেন্দ্রের জন্য ৫৮টি গণনা কেন্দ্র ও ৩৮৩টি হল বরাদ্দ রয়েছে। সকাল ৮ থেকে ভোট গণনা শুপু হবে এদিন। কিন্তু ঠিক কী ভাবে ধাপে ধাপে ভোট গণনা হবে, দেখে নেওয়া যাক-

১) সকাল ৬.৩০ মিনিটে পর্যবেক্ষক, রিটার্নিং অফিসার  বা প্রার্থী বা তাঁর প্রতিনিধির উপস্থিতিতে খুলবে স্ট্রং রুম।

২) সকাল ৮টায় শুরু ভোট গণনা। ৫০০ পোস্টাল ব্যালট পিছু একজন অ্যাডিশনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং  অফিসার থাকবে। ইলেকট্রনিকালি ট্রান্সমিটেড পোস্টাল ব্যালট সিস্টেমের (ইটিপিবিএস) মাধ্যমে সার্ভিস ভোটাররা ভোট দিয়েছেন। এই ইটিপিবিএস-এর তিনটি অংশে থাকবে কিউআরকোড। সেটি স্ক্যান করার জন্য প্রতি ৫০০ ভোট পিছু থাকবে ৩টে করে মেশিন। 

৩) ৮টা ১০ মিনিট থেকে শুরু ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) গণনা। ইভিএম কন্ট্রোল ইউনিটের তৃতীয় অংশে থাকে রেজাল্ট বিভাগ। আউটার ডোরে একটি ফ্ল্য়াপ থাকে। সেটি খোলা হয়। এর পরে খোলা হয় ইন্ডোর ডোর। সেখান থেকেই ইভিএমে থাকা প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট জানা যায়। ওই রেজাল্ট সেকশনটি জালের বাইরে থাকা প্রার্থীর এজেন্টকে দেখানো হবে।  প্রতিটি রাউন্ডে গণনার শেষে দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক সই করবেন। এর পরেই তা দেখা যাবে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট, নিউ সুবিধা অ্যাপ, ভোটার  হেল্পলাইন অ্যাপে দেখা যাবে। এভাবে চলবে গণনা। 

৪) ভিভিপ্যাট গণনার জন্য বিধানসভা পিছু পাঁচটি করে বুথ লটারিতে বাছাই হবে। এই লটারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে প্রার্থী বা তাঁৰ প্রতিনিধি, পর্যবেক্ষক,রিটার্নিং অফিসারদের উপস্থিতিতে।

৫) ভিভিপ্যাট মিলিয়ে দেখার জন্য ভিভিপ্যাট কাউন্টিং বুথ তৈরি হবে। এর পাঁচ দিক ঢাকা থাকে। ভিভিপ্যাটের ১০x৫.৬ সেন্টিমিটার কাগজের বান্ডিল গুনতে জলে আঙুল ভেজানো যাবে না। ২৫টি করে ভিভিপ্যাটের বান্ডিল হবে। যদি কোনও বুথের ইভিএমের কন্ট্রোল ইউনিট প্রাপ্ত ভোটের পরিমাণ না দেখায়, তাহলে সেই বুথের ভিভিপ্যাট গণনা করা হবে। সেই ভিভিপ্য়াটের ফলাফলই চূড়ান্ত হবে সেই বুথে। লটারির প্রক্রিয়ায় ওই ভিভিপ্যাট থাকবে না। 

এমনিতেই রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা ভোটের জন্য অশান্ত। তাই গণনার দিন যাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ফাঁক না থাকে সেদিকে দেখা হবে। 

১) গণনাকেন্দ্রের ১০০ মিটার এলাকায়  অনুমতিহীন কেউ থাকতে পারবে না। নিরাপত্তায় থাকবে জেলা এগজিকিউটিভ পুলিশ। 

২) গণনাকেন্দ্র চত্বরের দরজায় ডোর ফ্রেম মেটাল ডিটেক্টর, হ্যান্ড হেল্ড মেটাল ডিটেক্টর নিয়ে থাকবে রাজ্যের সশস্ত্র বাহিনী। 

৩) গণনাকেন্দ্রে এবং স্ট্রং  রুমে থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। 

৪)পর্যবেক্ষক ও রিটার্নিং অফিসার ছাড়া মোবাইল নিয়ে কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। 

৫) মহিলারা বড় ব্যাগ, জলের বোতল বা খাবার নিয়ে ভিতরে যেতে পারবেন না। 

দেখে নেওয়া যাক, গণনাকর্মী হিসেবে কারা থাকবেন- 

১) পোস্টাল ব্যালট গণনায় একজন কাউন্টিং সুপারভাইজার, দুজন কাউন্টিং অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং একজন কাউন্টিং মাইক্রো পর্যবেক্ষক থাকবেন। 

২) ইভিএমং গণনায় থাকবেন কজন কাউন্টিং সুপারভাইজার, একজনজন কাউন্টিং অ্যাসিস্ট্যান্ট, একজন কাউন্টিং মাইক্রো পর্যবেক্ষক। এখনও পর্যন্ত ১৪৪ জন পর্যবেক্ষক গণনা প্রক্রিয়ায় থাকবে বলে সিদ্ধান্ত কমিশনের। একজন পর্যবেক্ষক পিছু ২-৪টি বিধানসভা কেন্দ্র থাকার কথা।