স্বাধীনতার পরে ১৬ টি লোকসভা নির্বাচন দেখেছে ভারতবর্ষ। এই নিয়ে ১৭ তম। আক্ষরিক অর্থেই এমন নির্বাচন এর আগে হয়নি ভারতবর্ষে। নির্বাচন উপলক্ষ্যে হাওয়ায় উড়ছে ৩০০০ কোটি টাকা, এ অনেক ভারতীয়র পক্ষেই কল্পনা করাও মুশকিল। এই ভারতেই আছে আমলাশোল, দুমকার মতো অঞ্চল যেখানে আজও মানুষের না খেয়ে মরার খবর আসে। কিন্তু ভোট বড় বালাই।  দল ভাঙানো, শিবির বদলের মতো ঘটনা তো ভোটপরম্পরার সঙ্গে যুক্তই ছিল,এবার যুক্ত হল মূলধনের এই বিপুল অঙ্ক। নেতাদের ভাষায় বললে 'ভোট করাতেই' বাজারে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল এই বিপুল অঙ্কের টাকা।

কমিশন জানাচ্ছে , গত লোকসভা ভোটে মোট উদ্ধার হয়েছিল ১২০০ কোটি টাকা। এবার অঙ্কটা প্রায় তিনগুণ। এর মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়  স্থান অধিকার করেছে তামিলনাড়ু, গুজরাট, দিল্লি।  তামিলনাড়ুতে কমিশন আটক করেছে ৯৫০ কোটি টাকা, দিল্লিতে  ৫২২ কোটি টাকা, দিল্লিতে ৪২৬ কোটি টাকা। 

শুধু টাকা জমা নয়,নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগের নিরিখেও এই বছরটি অন্য রকম। ১০ মার্চ থেকে এ যাবৎ ৫০০ টি নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগ দাখিল হয়েছে, তার মধ্যে ৬টি দেশের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। অবশ্য প্রতিবারই তাকে ক্লিনচিট দিয়েছে কমিশন।

কমিশন এল বছরই স্বাধীনতার পরে প্রথম ভেলোরে টাকা ছড়ানো ও বাংলায় বিশৃঙ্খলার কারণে ৩২৪ জারি করেছে। দুই জায়গাতেই প্রচারের মেয়াদ প্রায় ১৯ ঘণ্টা করে কমে গিয়েছে। অভিযোগ পেয়ে ইসি ব্যবস্থা নিয়েছে ৬৪৫টি ফেসবুক পোসেট , ১৬০ টি টুইটারের বিরুদ্ধেও।

আর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সাঙ্গ হবে এ বছরের নির্বাচন। কার ভাগ্যে র শিঁকে ছিঁড়বে কেউ জানে না। এটুকু হলফ করে বলা যায়, এমন ভোটরঙ্গ ভারত এর আগে সত্যিই দেখেনি।