বিশ্বায়নের যুগে খবর ছড়িয়ে পড়তে সময় লাগে না। খবরটি সত্যি না মিথ্যে তা যাচাই করার আগেই ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এক জন থেকে আর এক জন সেই মিথ্যে খবর বা ফেক নিউজ-কেই বিশ্বাস করতে থাকে। ফেক নিউজের জেরেই তাই নিমেষে হিংসা, বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এবার এই ধরনের পরিস্থিতি সামলাতেই উদ্যত হয়েছেন ফেসবুক কর্তা মার্ক জুকেরবার্গ।

ভারতে লোকসভা ভোটের হাওয়া বইছে। তাই ফেসবুকের মাধ্যমে এই সময়ে যাতে ফেক নিউজ বা ভুয়ো খবর ছড়িয়ে না পড়ে, সেই দিকে নজর দিচ্ছেন মার্ক জুকেরবার্গ। কোনও খবর বা তথ্য কতটা সত্যি, বা সেই খবরটি মানুষের মধ্যে হিংসা তৈরি করতে পারে কি না সেই দিকগুলোই এবার খতিয়ে দেখবে ফেসবুক। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে এমনই জানা গিয়েছে।

সোশ্যাল নেটওয়ার্কে যাতে যথেষ্ট পরিমাণে স্বচ্ছতা বজায় থাকে, সেটি মাথায় রেখে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামে বেশ কিছু নতুন ফিচার্সের সঙ্গে পরিচয় করিয়েছেন জুকেরবার্গ। নির্বাচন চলাকালীন যাতে ফেসবুকে ভুয়ো খবর ছড়িয়ে না পরে সেই বিষয়টিতে নজর দেওয়ার জন্য দিল্লি থেকে কাজ চালাবে ফেসবুক।

এমনকী, ফেসবুক জানিয়েছে, তারা সংস্থায় বেশ কয়েকজন সাংবাদিক নিয়োগ করবেন। এই সাংবাদিকদের কাজ হবে খবরের সত্যতা যাচাই করা। প্রয়োজনে তাঁরা কোনও খারাপ বা ভুঁয়ো খবরকে সংশোধন করবেন বা খবরের মান উন্নত করে তুলবেন।

সম্প্রতি একটি ইভেন্টে মাকর্ জুকেরবার্গ জানান, বহু মানুষ রয়েছেন, যাঁরা সঠিক ও বিশ্বস্ত খবর পড়ার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেন। তাই ফেসবুকে নিউজ ট্যাব বা খবরের অপশনের দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে।

হোয়াটসঅ্যাপেও খুব শীঘ্রই চেকপয়েন্ট টিপলাইন বলে একটি অপশন আসতে চলেছে। একটি মিডিয়া স্কিলিং কোম্পানি প্রোটো-র সঙ্গে জোট বেঁধে এই নতুন ফিচারটি আনছে হোয়াটসঅ্যাপ। এই ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারী একটি নম্বরে খবরে পাঠিয়ে জানতে পারবে যে তথ্যটি ঠিক না ভুল, অতিরঞ্জিত না কি হিংসায় প্ররোচনা দেওয়ার মতো।

এছা়ড়াও নির্বাচন চলাকালীন ফেসবুক ও টুইটার ব্যবহারকারীদের সঙ্গে রাজনৈতিক কথোপকথন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।