বেনজির এক সাংবাদিক সম্মেলন করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুহুর্মুহু তোপ দাগলেন। কখনও পার্টিকর্মীদের বিশ্বাসঘাতকতা, কখনও পেশিশক্তি,মমতার রোষ আর অভিমান থেকে বাদ গেল না কেউ। নিজের পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতিকে সমালোচনা করলেন নিজেই।  আবার একই সঙ্গে মুসলিম তোষণে অভিযোগের উত্তরে কৃতিত্ব নেওয়ার  সুযোগও ছাড়লেন না।

মুসলিম ভোটব্যাঙ্কের তাঁর শেষ ভরসা।  একথা বিলক্ষণ জানেন মমতা। সামনে ইফতার। এবারও কী যাবেন তিনি? সাংবাদিকরা প্রশ্ন করার আগেই  উত্তর উঠে এল তাঁর মুখে। অবশ্যই ইফতারে যাবেন তিনি, কেননা যে গরু দুধ দেয় তার লাথ খেতে তৈরি তিনি। হ্যাঁ এমন ভাষাতেই সাংবাদিক সম্মেলনে কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজনীতির বিশ্লেষকরা বলছেন, মান অভিমান নয়, মমতা নতুন করে ঘর সাজাতে বসেছেন। এবার ছয়জন মুসলিম সাংসদ তাঁদের মুখ রেখেছে। এই ভোট এসেছে মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক থেকেই। মমতা জানেন, এই মুসলিম ভোটকে বিধানসভা ভোটে হাতে রাখতে না পারলে বিপর্যয় রোখা যাবে না। এই কারণেই ঝড়ে ভাঙা ঘর সাজানোর মমতা প্রথম দিন থেকেই এই জনগোষ্ঠীকে হাতে রাখার জন্যে এই রকমটা বললেন মমতা। 

ভোটের পরে এই প্রথম ভোটের পর সাংবাদিকদের সামনে এলেন মমতা। তাঁর দেওয়া পাটিগণিত ভোটের ময়দানে খাটেনি।  সেই দায় তিনি দিলেন সিপিএমকে। বললেন, "আমি এই চেয়ার নিতে রাজি না। সবাই প্রতিবাদ করলে আছি, না হলে নেই।  দু' জায়গায় সিপিএম লড়েছে। প্রত্যেকটা সিটে ভোট দিয়েছে বিজেপিকে,  বিজেপি সিপিএম এর জোরে ভোট করেছে।"

সিপিএম-বিজেপি আঁতাতের কথা ভোটের আগে থেকেই বলে আসছেন তিনি। এদিন বললেন 'জগাই মাধাই এক হয়েছে, ত্রিপুরাকেও বিজেপির হাতে দিয়েছে। এখানেও দিচ্ছে।'

পার্থ চট্টোপাধ্যযায়ও এদিন মমতার ঝড়ে নড়ে গিয়েছিলেন। মমতা তাঁকে বলেন, তাকিয়ে লাভ নেই আমি স্ট্রেট ফরয়ার্ড সবাই জানে। হ্যাঁ, স্ট্রেট ফরোয়ার্ড খেলা ছাড়া এখন আর উপায়ও নেই মমতার।  ডু অর ডাই সিচুয়েশনে আর কী করবেন তৃণমূল সুপ্রিমো!